পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৩ ফেব্রুয়ারি: পূর্বাঞ্চল আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় মহিলা ফুটবল টুর্নামেন্টের আজ পঞ্চম অর্থাৎ শেষ দিন। এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতার শেষ দিনের ম্যাচগুলি অনুষ্ঠিত হয়েছিল মেদিনীপুরের শ্রী অরবিন্দ স্টেডিয়াম এবং বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণের ক্ষুদিরাম ক্রীড়াঙ্গনে।
ক্ষুদিরাম ক্রীড়াঙ্গন প্রাঙ্গনে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম লিগ ম্যাচটি শুরু হয়েছিল সকাল ৮.৪০- এ বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় বনাম রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে। প্রথমার্ধে দুই দলই কৌশলগত ভাবে নিজেদের দক্ষতা দেখিয়ে চলেছিল। দুই দলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের কারণে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। ফলে ০-০ গোল হয়ে থেকে যায়।

দুপুরে খেলাটি আবার অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় লিগ ম্যাচটি শুরু হয়েছিল ২.৪০- এ বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় বনাম উৎকল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে। প্রথম পর্বে দুই দলই সতর্ক ও কৌশলগত ফুটবল প্রদর্শন করে। বল দখল, নিখুঁত পাসিং এবং শক্তিশালী রক্ষণভাগের মাধ্যমে তারা নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালায়। দর্শকদের করতালি ও উৎসাহ খেলোয়াড়দের আরও উদ্দীপ্ত করে তোলে। বহু হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর প্রথমার্ধে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সুজাতা মাহাত (জার্সি নং ৭) একটি গোল দিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যায়। আবারো বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলসী হেম্ব্রম (জার্সি নং ১২) একটা গোল দিয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যায়। সেই সঙ্গে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় ২-০ গোলে রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে। দুটো দলের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব ছিল। খেলা শেষে দুটো দলের খেলোয়াড়রা একে অপরের সাথে করমর্দনের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ কোলাকুলি করতে করতে মাঠ থেকে বেরিয়ে যায়।

শ্রী অরবিন্দ স্টেডিয়ামে প্রথম লিগ ম্যাচটি শুরু হয়েছিল সকাল ৮. ৩৫ মিনিটে অ্যাডামাস বিশ্ববিদ্যালয় বনাম উৎকল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে। দুই দল সাবধানতার সঙ্গে নিজেদের খেলার প্রদর্শন করে চলেছিল এবং হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে খেলা শুরু হওয়ার ৫ মিনিটের মধ্যে অ্যাডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিয়া রুই দাস (জার্সি নং.১৪) একটি গোল করে দলকে উএগিয়ে নিয়ে যায়। সেই সঙ্গে প্রথমার্ধের খেলাটি শেষ হয়। দ্বিতীয় পর্বে উৎকল বিশ্ববিদ্যালয়ের দারুন পারফর্মেন্স থাকায়, অ্যাডামাস বিশ্ববিদ্যালয় কোনো গোল দিতে পারেনা। সেইসঙ্গে নির্ধারিত সময়ে খেলাটি শেষ করে অ্যাডামাস বিশ্ববিদ্যালয় ১-০ গোলে উৎকল বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে। দ্বিতীয় ম্যাচটি শুরু হয়েছিল দুপুর ২.৫০ মিনিটে রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয় বনাম অ্যাডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে। দুই দলের নিজেদের মধ্যে সুন্দর ক্রীড়া কৌশল প্রদর্শন করতে থাকে। বহু প্রতীক্ষার পর প্রথমার্ধে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয়ের আমিশা বাক্সলা (জার্সি নং.৯) একটি গোল দিয়ে দলটিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। নির্ধারিত সময়ে খেলাটি শেষ করে রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয় বিজয়ী হয় ১-০ গোলে। সেই সঙ্গে খেলাটি শেষ হয়েছিল বহু হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে।

লীগ ম্যাচ শেষে ৪টি দল সর্বভারতীয় স্তরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। প্রথম স্থানাধিকারী দলটি হলো অ্যাডামাস বিশ্ববিদ্যালয়, যারা তাদের দুর্দান্ত প্রদর্শনের মাধ্যমে শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রাঁচি বিশ্ববিদ্যালয়, তৃতীয় স্থানে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং চতুর্থ স্থান অর্জন করছে উৎকল বিশ্ববিদ্যালয়। এই ফলাফল দলগুলির কঠোর পরিশ্রম ও সাফল্যের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছ।

