জয় লাহা, দুর্গাপুর, ২৩ মে: করোনা মারণ কামড়ের মাঝে ‘যশ’ ঘুর্নী ঝড়ের আতঙ্ক। পাকা ধানে মই দেওয়ার আগে চাষীদের আগাম সতর্ক করল গলসী-১ নং ব্লক প্রশাসন। ঝড় বৃষ্টির আগেই বোরো ধান মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার পরামর্শ দিল প্রশাসন। একই সঙ্গে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান তুলতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, চলতি মরশুমে গলসী-১ নং ব্লকে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর জমি বরো ধানের চাষ হয়েছে। সব থেকে বেশী চাষ হয়েছে পারাজ, লোয়া- রামগোপালপুর, লোয়া -কৃষ্ণরামপুর, চাকতেঁতুল, শিড়রাই, উচ্চগ্রাম, পোতনা-পুরষা পঞ্চায়েত। করোনা মহামারীর মাঝে ‘যশ’ ঘুর্নী ঝড় চোখ রাঙ্গাচ্ছে বঙ্গোপসাগরে। আর তাতেই আতঙ্কের কালোমেঘ গ্রাস করেছে শস্যগোলা পুর্ব বর্ধমানের গলসীর চাষীদের। কারন সর্বোচ্চ ধান উৎপাদনে দেশের মধ্য শির্ষস্থানে উঠে আসে গলসী। গত বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টির ফলে আমন ধানের চাষ ভালো হয়েছিল। তবে তার আগে আমফানের দাপটে মাথায় হাত পড়েছিল বরো ধানে। ঝড়বৃষ্টির ফলে মাঠেই নষ্ট হয়েছিল প্রচুর ধান। ঠিক তার একবছর পর আবারও আরও এক ঘুর্নীঝড়ের চোখরাঙানী। স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত চাষীরা।
আগামী ২৬ মে এরাজ্যে ঘুর্নীঝড় আছড়ে পড়ার আশঙ্কা। হাতে গোনা ক’টা দিন মাত্র সময়। কৃষি প্রধান এই এলাকায় মুলত, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া থেকে শ্রমিকরা চাষের কাজে আসে। চাষীদের বক্তব্য, ‘করোনা সংক্রমণ রুখতে লকডাউন চলছে। ফলে ওইসব শ্রমিকরা আসতে পারছে না। ফলে দ্রুত ধান তুলতে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
প্রসঙ্গত, গত বছর জেলায় ৪৬ হাজার ৭০০ হেক্টর রবি চাষ হয়েছিল। যার মধ্যে গত বছর আমফানের দাপটে প্রায় ৩৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ক্ষতির পরিমান প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। সব থেকে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে গলসী-১ নং, গলসী-২ নং, আউশগ্রাম ১নং, আউশগ্রাম-২ নং ব্লক। তবে এবছর আগাম সতর্কতা জারি করেছে রাজ্য সরকার।
গলসী-১ নং ব্লক কৃষি আধিকারিক অরিন্দম দানা জানান, “প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসার সম্ভাবনা। তাই চাষীদের মাঠ থেকে দ্রুত ধান তুলে নেওয়ার আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যদিও ইতিমধ্যে ৯০ শতাংশের ওপর ধান মাঠ থেকে উঠে গেছে। তবুও ব্লকের সমস্ত পঞ্চায়েত প্রধানদের নিয়ে মিটিং করে জানানো হয়েছে। মাইকিং করা হচ্ছে। হার্ভেস্টার মেশিনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চাষীরা ওই মেশিনের সাহায্যে দ্রুত ধান কেটে ঘরে আনতে পারবেন।”

