আমাদের ভারত, ২ আগস্ট: প্রধানমন্ত্রীর বরাবর ডিজিটাল লেনদেন এর পক্ষে সাওয়াল করে এসেছেন। বারবার তিনি দেশের মানুষকে ভিজিটাল লেনদেনে উৎসাহিত করেছেন। এবার ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা আরও একধাপ এগিয়ে গেল। দেশে আজ চালু হলো ই-রুপি।
ইরুপি ভাউচার ডিজিটাল লেনদেনে গতি আনতে সাহায্য করবে। একই সাথে গতি আসবে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারেও। এতে প্রত্যেকে স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত ডেলিভারি সুযোগ পাবে। ইলেকট্রনিক ভাউচার প্রমোটিং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ইরুপির উদ্বোধন করে এমনটাই জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ভারতের প্রথম ডিজিটাল মুদ্রা হলো ই-রুপি। পরিষেবা প্রদানকারী এবং গ্রাহকের মধ্যে স্পর্শ এড়িয়ে লেনদেনের সুবিধা দেবে এটি।
মোদী বলেন, এটি একটি ভবিষ্যৎদর্শী ডিজিটাল অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়া। যা ব্যবহারকারীদের অজস্র সুবিধা দেবে। বিভিন্ন ব্যক্তিভিত্তিক সরকারি প্রকল্প এবং পরিষেবার জন্য যে অর্থ দিতে হয়। এখন থেকে কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সেটা দেওয়া যাবে এই ই-রূপির সাহায্যে। বেসরকারি ক্ষেত্রে এই ডিজিটাল ভাউচার ব্যবহার করে কর্মীদের কল্যাণমূলক কাজ করা যাবে বলে জানানো হয়েছে সরকারি বিবৃতিতে।
কিন্তু এই রুপি আসলে কি? কিভাবে কাজ করবে এই সিস্টেম? ই-রুপি হলো এক ধরনের লেনদেন পরিষেবা। ইউপিআই প্লাটফর্মে অর্থ পরিষেবা দপ্তর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক এবং জাতীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে এই পরিষেবার ব্যবস্থা করেছে ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া। সরকারি বিবৃতির জারি করে বলা হয়েছে এটা এক ধরনের কিউ আর কোড বা এস এম এস স্ট্রিং বেসড ইলেকট্রনিক্স ভাউচার। উপভোক্তার মোবাইলে পাঠানো হবে এটি। এককালীন পেমেন্ট পদ্ধতি। এর ব্যবহারকারী পরিষেবা প্রদানকারীর কাছে কার্ড ডিজিটাল পেমেন্ট অ্যাপ বা ইন্টারনেট ব্যাংকিং ছাড়াই ভাউচার ভাঙাতে সক্ষম হবেন।
এই পরিষেবা দেওয়ার জন্য ব্যাঙ্কগুলিকে এর সঙ্গে যুক্ত করেছে ভারতের জাতীয় পেমেন্ট কর্পোরেশন। যার নামে ভাউচার তার বিশদ তথ্য এবং কি জন্য অর্থ প্রদান করা হবে তা জানালে প্রাপকের মোবাইলে ভাউচার পাঠাবে ব্যাংক। যে বা যারা পরিষেবা দিচ্ছে তাদের সঙ্গে গ্রাহককে সরাসরি ডিজিটাল মাধ্যমে যুক্ত করবে এই পরিষেবা। এই পরিষেবার তথ্য চুরি যাওয়ার কোনো আশঙ্কা থাকবে না বলেও দাবি করেছে সরকার। ই-রুপি আসলে এক ধরনের এই ভাউচার– যেমন গিফট ভাউচার তেমনি কিছুটা। তবে এক্ষেত্রে ভাউচারটি কিউ আর কোড বা এসএমএস এর মাধ্যমে গ্রাহকের মোবাইলে পৌঁছে দেওয়া হবে। একটি ভাউচার একবারই ব্যবহার করা যাবে। ই–রুপি হলো গ্রাহক এবং পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার মেলবন্ধনের একটি সেতু। এই প্রক্রিয়ায় ক্রেতা বা গ্রাহক লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করলে তবেই বিক্রেতা ই-রুপি ভাউচারের অর্থ হাতে পাবেন।

