আমাদের ভারত, ২ অক্টোবর:ডিভিসির জল ছাড়াকে ‘ম্যান মেড ক্রাইম’, বলে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লেখার হুঁশিয়ারি পর্যন্ত দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। না জানিয়ে এভাবে জল ছাড়ার কারণে রাজ্য বন্যা হয়েছে। কিন্তু ডিভিসির প্রাক্তন ইঞ্জিনিয়ার সত্যব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বলেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে না জানিয়ে জল ছাড়ার কোনো প্রশ্নই, রাজ্য প্রশাসনের সব স্তরে জল ছাড়ার খবর আগেই দেওয়া হয়।
ডিভিসির প্রাক্তন ইঞ্জিনিয়ার সত্যব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “রাজ্য সরকারকে না জানিয়ে জল ছাড়ার কোন প্রশ্নই ওঠে না। আমাদের সিস্টেমেই আছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে জানিয়ে জল ছাড়ার কাজ করি। আমাদের তরফের ফ্লাড ওয়ার্নিং দেওয়া হয়। এরপর সমস্ত ডিস্ট্রিক্ট অথরিটি এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল গভর্মেন্টকে জানানো হয়। তারও ছয় ঘণ্টা পর জল ছাড়া হয়। যে জলটা ছাড়া হয় সেটি এবার ৪৮-৭২ ঘন্টা পর পর নীচে গিয়ে পৌঁছায়। ডিসট্রিক্ট অথরিটি থেকে এসডিও, বিডিও এবং পঞ্চায়েত লেভেলের সবজায়গাতেই এই জল ছাড়ার খবর পৌঁছায়। এছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ডিভিসির জল ছাড়া সংক্রান্ত কমিটির মেম্বার।”বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও এই একই তথ্য তুলে ধরে রাজ্য সরকারকে বন্যার কারণে মানুষের অসুবিধার জন্য দায়ী করেছেন। তিনি বলেছেন, জল ছাড়ার কথা জানা থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাননি।
প্রসঙ্গত,অতিরিক্ত বৃষ্টির জেরে এমনিতেই ভুগতে হয় রাজ্যবাসীকে। এরপর দক্ষিণ বঙ্গে ডিভিসির ছাড়া জলে প্লাবিত আটটি জেলা। লাখ লাখ মানুষ উৎসবের আগে বন্যার কবলে। এবিষয়ে নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক মুখ্যমন্ত্রী ডিভিসিকে দায়ী করে বলেন,‘যেভাবে এবারে জল ছাড়া হয়েছে, এটি একটি বড় অপরাধ। এটা ম্যান মেড ক্রাইম। এর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাব প্রধানমন্ত্রীকে।”
৩০ সেপ্টেম্বর এবং ১ অক্টোবর দফায় দফায় জল ছেড়েছে ডিভিসি। ঝাড়খণ্ডের থেকে ৮০ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। দু’দিন মিলিয়ে প্রায় ১০ লাখ কিউসেকের উপর জল ছেড়েছে কেন্দ্র।’ যদিও ডিভিসির দাবি সব সময় নবান্ন কে জানিয়ে তারপরে জল ছাড়া হয়। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘এর আগে কখনও এত জল ছাড়া হয়নি। এটা ম্যানমেড ক্রাইম। যেভাবে জল ছাড়া হয়েছে তা অপরাধ। ডিভিসির ছাড়া জলে ৮ জেলা প্লাবিত। ড্রেসিং করলে বাংলার এই পরিণতি হত না।”

