জয় লাহা, দুর্গাপুর, ১৬ ডিসেম্বর: করোনাকাল কাটিয়ে স্বাভাবিক হচ্ছে দেশ। পিকনিকের মরশুম শুরু হতেই পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন জলাধার, পার্কে। সুস্থ স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষার্থে বুদবুদের রনডিহা জলাধার সংলগ্ন পিকনিক স্পট সাজাতে উদ্যোগ নিল গলসী- ১ নং পঞ্চায়েত সমিতি। পর্যটকদের সুরক্ষা ও দুর্ঘটনা ঠেকাতে বৃহস্পতিবার রনডিহায় সেচ দেফতরের বাংলোতে হল প্রসাশনিক বৈঠক। নদীতে নৌকা বিহারের সুরক্ষায় দেওয়া হল লাইফ জ্যাকেট।
উল্লেখ্য, ১৯২৭ সালে রনডিহা জলাধারটি তৈরী হয়। আশপাশের রনডিহা, চাঁকতেতুল, বনগ্রাম, ফতেপুর, গো-মহল প্রভৃতি এলাকার চাষের সুবিধার্থে এই জলাধার তৈরী হয়। দামোদরে জলাধারের উত্তর প্রান্তে রয়েছে রনডিহা ও অপর প্রান্তে রয়েছে বাঁকুড়া জেলা। জলাধারের জলে নির্ভরশীল প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর কৃষিজমি। বেহাল রাস্তা ও সৌন্দযায়নের অভাবে
ওই জলাধারে পিকনিকের মরশুমে পর্যটকরা মুখ ফিরিয়েছে। বছর তিনেক আগে দিঘার আদলে রনডিহা জলাধারকে ঢেলে সাজানোর কথা ঘোষণা করেছিল রাজ্য পর্যটন দফতর ও স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতি। জলাধার সংলগ্ন সেচদফতরের প্রায় ২০০ একর জমি রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে সেচ দফতরের বাংলো ও অফিস। জলাধার এলাকার প্রকৃতির মনোরম পরিবেশই হাতছানি দেয়। রয়েছে সরকারি অতিথীশালা। এছাড়াও জানাগেছে, দামোদর নদের পাড়ে পর্যটনকেন্দ্র সাজাতে প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল।

প্রজেক্ট রিপোর্ট অনুযায়ী জলাধার সংলগ্ন শিশু উদ্যান, কটেজ, বোটিং ও প্যারাগ্লাইডিংয়ের ব্যাবস্থা করা, আধুনিক মানের পরিকাঠামো উন্নয়ন করার সিদ্ধান্ত হয়। প্রায় ১১ একর জমির ওপর সবুজায়ন ও উদ্যান প্রথম পর্যায়ে করার উল্লেখ ছিল। এছাড়াও জলাধারের পাশে ছোট পুকুর রয়েছে সেখানে রঙিন মাছ চাষের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ছোটো ছোটো কটেজ, কৃত্রিম ঝর্ণা তৈরী করে সৌন্দর্যায়ন করাও ছিল প্রকল্পে। যদিও সেসব এখন বিশ বাঁও জলে। লাল ফিতের ফাঁসে আটকে রনডিহা জলাধারকে ঘিরে পর্যটন কেন্দ্রের কাজ। গত দু’বছর সারা বিশ্ব মারণ রোগ করোনার থাবায় সিঁটিয়ে। সম্প্রতি টিকা আবিস্কার ও তার প্রয়োগ চলছে জোর কদমে। ক্রমশ স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে দেশ। লকডাউনে গৃহবন্দি মানুষের পর্যটনে যাওয়ার উৎসাহ শুরু হয়েছে। গত একমাস ধরে শীত পড়েছে। কনকনে ঠান্ডা তারিয়ে উপভোগ করতে জলাধার ও পার্কে ভিড় জমছে। সেরকমই পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়েছে রনডিহা জলাধারে। সেখানের সুস্থ স্বাভাবিক মনোরম পরিবেশ বজায় রাখতে উদ্যোগী হল গলসী-১ নং পঞ্চায়েত সমিতি। বৃহস্পতিবার পর্যটকদের সুরক্ষা ব্যবস্থায় সেচ দফতরের অতিথিশালায় প্রশাসনিক বৈঠক হয়। উপস্থিত ছিলেন গলসি-১ নং বিডিও দেবলিনা দাস, গলসি-১ নং পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি অনুপ চ্যাটার্জি। চাকতেঁতুল পঞ্চায়েত প্রধান অশোক ভট্টাচার্য ও বুদবুদ থানার পুলিশ।
উল্লেখ্য, রনডিহা জলাধারে স্নান করতে নেমে কখনও স্রোতের কাছে সেলফি তুলতে গিয়ে জলে তলিয়ে দুর্ঘটনাও ঘটেছে। সেসব দুর্ঘটনা ঠেকাতে একগুচ্ছ কড়া নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চাকতেঁতুল পঞ্চায়েত প্রধান অশোক ভট্টাচার্য জানান, “পরিস্কার করা হবে পিকনিক স্পট। পানীয় জল, আলো ও গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শৌচালয়গুলি পরিস্কার ও নতুন কিছু শৌচালয় তৈরী করা হবে। গোটা জলাধার চত্বর প্ল্যাটিক ও থার্মোকল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকছে। সিভিল ডিফেন্স মোতায়ন থাকবে।”
পর্যটকদের নৌকাবিহারে একাধিক নৌকা রয়েছে। তার সুরক্ষা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে গলসি-১ নং পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি অনুপ চট্টোপাধ্যায় জানান, “১০ টি লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়েছে। তার সঙ্গে নদীতে সর্বক্ষণ নজরদারি থাকবে।”

