পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২১ ফেব্রুয়ারি: ডিএ আন্দোলনের জেরে ধুন্ধুমার কাণ্ড মেদিনীপুর জেলাশাসকের কার্যালয়ের সামনে। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সদস্যদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের সদস্যদের বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য, বকেয়া ডিএ’র দাবিকে সামনে রেখে ৪৮ ঘন্টা কর্ম বিরতির ডাক দিয়েছিলেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সদস্যরা। আজ মঙ্গলবার ছিল সেই কর্ম বিরতির দ্বিতীয় দিন। মঙ্গলবার দুপুরে যখন জেলাশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছিলেন যৌথ মঞ্চের সদস্যরা ঠিক তখনই সরকারি কর্মচারি ফেডারেশনের সদস্যরা প্ল্যাকার্ড ও পতাকা হাতে কর্মবিরতির বিরুদ্ধে শামিল হন, এবং তখনই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সেই সংঘর্ষ ক্ষণিকের মধ্যেই গড়ায় হাতাহাতিতে। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার ছিঁড়ে দিতে দেখা যায় সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের সদস্যদের। এমনকি সংঘর্ষ চলাকালীন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সদস্যদের ওপর পা উঠিয়ে বেশ কয়েকবার লাথি মারতে দেখা যায় ফেডারেশনের উপদেষ্টা মন্ডলের সদস্য সুব্রত সরকারকে। পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।

এই সংঘর্ষ সম্পর্কে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সদস্য গঙ্গাধর বাবু জানান, “সরকারি কোষাগার থেকে যেসব কর্মচারীরা বেতন নেয় সেই সব কর্মচারীদের নিয়েই আমাদের যৌথভাবে কর্ম বিরতি কর্মসূচি চলছে। গতকালও চলেছে এবং আজও চলছে। আজ দুপুর ১:৩০ টার সময় একটা মিছিল করারও কথা ছিল আমাদের। সেই উদ্দেশ্যে আমাদের প্ল্যাকার্ড এবং ফেস্টুন বা ব্যানার নিয়ে তার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। হঠাৎ করে দেখা গেল যে তাদের মিছিল এসে আমাদের উপর হামলা চালায়। আমাদের ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেললো, নেতৃত্বদের ঘুসি মারলো, লাথি মারলো, আমাদের সংগঠনের মহিলাদের উপরও ঠেলাঠেলি ও ঘুষি মেরেছে, কারোও হাত মটকে দিয়েছে, তবুও আমরা শান্তভাবে আমাদের অনুষ্ঠান করছি। কারণ ওরা কি করতে চায় সেটা আমরা দেখব। ওরা ওদের স্লোগান দিচ্ছে দিক, আমরা আমাদের কথা বলব, আমরা আমাদের স্লোগান দেব, আমাদের কাজ করব। কিন্তু আমরা যখনই স্লোগান দিচ্ছি, আমাদের উপর এসে আক্রমণ চালাচ্ছে আমাদের মারধর করছে। আমাদের বয়স্ক একজন সদস্য অসিত বাবুকে লাথি মেরেছে। মহিলাদের হাত মচকে দিয়েছে। কোনো কথাই বলতে দেওয়া হচ্ছে না আমাদের। কিসের জন্য জানি না। আমরা শুধু ডিএ’র জন্য দাবি করেছি। এরা নিজেরা সরকারি কর্মচারী কিনা সন্দেহ আছে। কর্মচারীর নাম করে বাইরের কিছু দুষ্কৃতীদের ডেকে এনে আমাদের যে আন্দোলন তাকে ভাঙার চেষ্টা করছে।”
যদিও এ সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তৃণমূল কর্মী তথা সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের উপদেষ্টা মন্ডলের সদস্য সুব্রত সরকার জানান, “কতগুলো দুষ্কৃতি এসেছিল কালেক্ট্রির সংস্কৃতিকে নষ্ট করে দেওয়ার জন্য। সরকারি কর্মচারীদের সাংস্কৃতিকে নষ্ট করে দিতে কতকগুলো বহিরাগত যারা সরকারি কর্মচারী নয়, সিপিএম এবং বিজেপির আশ্রিত দালাল এবং গুন্ডা তারা এসে সরকারি কর্মচারীদের বিভ্রান্ত করছিল। আমরা তার বিরুদ্ধে সংস্কৃতি রক্ষা করার জন্য সরকারি কর্মচারীদের পাশে দাঁড়িয়েছি। আমাদের সাথে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছে, মানস ভুঁইঞা আছে, জেলাতে সভাপতি শীতল বীদ আছে। যা বলার উনি বলবেন।”
কিন্তু লাথি মারা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে প্রথমে কোনোরকম ভাবে মুখ না খুলতে চাইলেও পরবর্তীতে সুব্রত সরকার জানান, “সমস্তটাই মিথ্যে, আমাকে আগে মারা হয়েছিল।”
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরে পুলিশের তৎপরতায় নিয়ন্ত্রণে আসে গন্ডগোল। তবে দিনে দুপুরে এমন ঘটনার জেরে এবং জেলাশাসকের অফিস চত্বরে আচমাই মারপিট গন্ডগোলের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল ছড়ায় কালেক্টরেট অফিস চত্বরে।

