পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, মেদিনীপুর, ১৬ ফেব্রুয়ারি: গতকাল মেদিনীপুর এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার মেদিনীপুরে প্রশাসনিক সভার পর বাঁকুড়া ও পুরুলিয়াতেও সফরের কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরের মধ্যে জঙ্গলমহলে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে একাধিক জনজাতি সংগঠন। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর ও সম্ভাব্য বার্তা ঘিরে কৌতূহল দানা বাঁধছে জঙ্গলমহল জুড়ে।
গত শনিবার দক্ষিণ-পূর্ব রেলের খড়গপুর-টাটানগর শাখায় খেমাশুলি স্টেশনের কাছে অবরোধ করে আদিবাসীদের সামাজিক সংগঠন আদিবাসী সেঙ্গেল অভিযান। করা হয় সড়ক অবরোধও। একাধিক দাবিতে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খন্ড ও অসম রাজ্যে রেল ও সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছিল আদিবাসী সংগঠনটি। তাঁদের দাবিগুলি:
১. সারনা ধর্মের কোড চালু করা
২. মারাংবুরু তথা পরেশনাথ পাহাড়কে জৈনদের তীর্থস্থান হিসেবে ঘোষনা না করে আদিবাসীদের ফিরিয়ে দিতে হবে
৩. অন্যান্য রাজ্যের মত আসামে ও আন্দামানে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষদের এসটি পদমর্যাদা দিতে হবে
৪. ঝাড়খণ্ডে সাঁওতালি ভাষাকে রাজভাষার স্বীকৃতি দিতে হবে
ঐদিন সাধারণ মানুষের স্বার্থে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হলেও আদিবাসী সংগঠনটির হুঁশিয়ারি, তাঁদের দাবিগুলিকে মান্যতা দেওয়া না হলে ১১ ই এপ্রিল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করা হবে।
অন্যদিকে নিজেদের দাবি আদায়ে আগামী ১ এপ্রিল থেকে জঙ্গলমহল জুড়ে ‘ঘাঘর ঘেরা’ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে কুড়মি সমাজ পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কুড়মি সংগঠনটির অভিযোগ, গত সেপ্টেম্বর মাসে কুড়মিদের আন্দোলনের সময় প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও কুড়মিদের আদিবাসী তালিকাভুক্তির স্বপক্ষে সওয়াল করে রাজ্য সরকারের তরফে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সংশোধিত সিআরআই তথা কালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট রিপোর্ট এখনও পাঠানো হয়নি। অবিলম্বে কুড়মিদের এসটি তালিকাভুক্ত করা, কোড সহ সারনা ধর্মের স্বীকৃতি, কুড়মালী ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তপশিলে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়ে সড়ক অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝটিকা মেদিনীপুর তথা জঙ্গলমহল সফর যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। রাজনৈতিক মহলের অভিমত, মুখ্যমন্ত্রী একাধিকবার ‘জঙ্গলমহলে উন্নয়ন হচ্ছে’ বলে বার্তা দিলেও জনজাতি সংগঠনগুলির বিভিন্ন দাবি উত্থাপন এবং তা কেন্দ্র করে লাগাতার আন্দোলন ও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলছে। কয়েকমাসের মধ্যেই রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন৷ শাসক দলের তরফে নেওয়া হয়েছে ‘দিদির দূত’ সহ একাধিক কর্মসূচি। তারই পরিপ্রেক্ষিতে এবারের জঙ্গলমহল সফরে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা কী হতে চলেছে সেই দিকে নজর থাকবে বিভিন্ন জনজাতি সংগঠন, রাজনৈতিক মহল ও জঙ্গলমহলবাসীর।

