নিজস্ব প্রযুক্তিতে জলের নমুনা পরীক্ষাগার তৈরী করল দুর্গাপুর সিএমইআরআই

জয় লাহা, দুর্গাপুর, ৩০ আগস্ট: ডাইরিয়া থেকে আমাশা, আর্সেনিক, চর্মরোগ, ফ্লোরিডেশনের মত নানান রোগের প্রকোপ গ্রাম বাংলায় প্রায়ই দেখা যায়। এধরনের রোগ মূলত জলবাহিত। আর ওই পানীয় জলের নমুনা পরীক্ষার জন্য নিজস্ব প্রযুক্তিতে পরীক্ষাগার তৈরী করল দুর্গাপুর কেন্দ্রীয় যান্ত্রিক ও প্রযুক্তি গবেষণাগার
(সিএমইআরআই)। গত শনিবার ওই গবেষণাগারের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী(রাষ্ট্র) ডাঃ সুভাষ সরকার। 

প্রশ্ন, কেন প্রয়োজন পানীয় জলের নমুনা পরীক্ষা। 
প্রসঙ্গত, জলে ফ্লুরাইডের স্বাভাবিক মাত্রা ১.৫ পিপিএমের কম থাকা ভাল। কিন্তু ৯০ শতাংশ জলে ৬ পিপিএম ফ্লুরাইড থাকে। আর ওই জল পান করলে যার ফলে ডেন্টাল ফ্লোরাইড ও স্কেলিটাস ফ্লোরাইড হয়। ১৯৯৮ সালে বিজ্ঞানীরা একটি সার্ভে করে। তাতে জানা গেছে, দেশের ১১টি রাজ্য ফ্লুরাইডের প্রভাব রয়েছে। এরাজ্যের বাঁকুড়ার ১৭৬টি গ্রাম ও বীরভূম জেলায় ৫২টি গ্রাম ফ্লুরাইড আক্রান্ত।

এছাড়াও এরাজ্যের গাঙ্গেয় উপকুলবর্তী মালদা, মুর্শিদাবাদ, দুই ২৪ পরগণার মতো ৬ টি জেলায় জলে আর্সেনিকের প্রভাব রয়েছে। ফলে ওই জেলার বেশ কিছু এলাকায় মানুষ আর্সেনিকের প্রকোপে পড়তে হয়। আবার  চর্ম শিল্পাঞ্চল, ইস্পাত শিল্পাঞ্চল এলাকায় জল দূষণের ফলে নানান ধরনের চর্ম রোগ ও আমাশা, ডাইরিয়ার মতো নানান জলবাহিত রোগের প্রকোপে পড়তে হয় মানুষকে। আর তাই ওইসব রোগের প্রকোপের শুরুতেই কিম্বা পানীয় জলের নলকূপ বসানোর পর জলের নমুনা পরীক্ষা দরকার। তাতে এধরনের রোগের প্রকোপ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এমনটাই দাবি বিজ্ঞানীদের।

তাবড় শিল্পাঞ্চলে কম খরচে জলের নমুনা পরীক্ষার জন্য নিজস্ব প্রযুক্তিতে পরীক্ষাগার তৈরী করল দুর্গাপুর কেন্দ্রীয় যান্ত্রিক ও প্রযুক্তি গবেষণাগার (সিএমইআরআই)। জলের কি ধরনের নমুনা ওই পরীক্ষাগারে হবে। সিএমইআরআইয়ের বিজ্ঞানী ডঃ বিশ্বজিৎ রুজ বলেন,
“জলে ই কলিকর মত ব্যাকটিরিয়া থাকলে আমাশা, ডাইরিয়া হতে পারে। আবার মার্কারি থাকলে ব্রেন ড্যামেজ হতে পারে। আর্সেনিক থাকলে চর্ম রোগ ক্যানসার হতে পারে। ফ্লুরাইড থাকলে দাঁত ও হাড়ে ফ্লোরিডেশন হতে পারে।” তিনি বলেন,”জলের এরকম ৩৪ ধরনের প্যারামিটার পরীক্ষা করা হয় আমাদের পরীক্ষাগারে।” সিএমইআরআইয়ের ডিরেক্টর ডঃ হরিশ হিরানী বলেন,”খুব কম খরচে পরীক্ষা করা হয়। ৩৪ প্যারামিটার একসঙ্গে পরীক্ষার জন্য প্যাকেজ করা হয়েছে। গ্রামীন এলাকায় পঞ্চায়েত ও শহরাঞ্চলে পুরসভা থেকে নিজেদের এলাকার জলের নমুনা পরীক্ষা করাতে পারে।”

উল্লেখ্য, দুর্গাপুর সিএমইআরআই জলের আর্সেনিক, ফ্লুরাইডের মত ব্যাকটেরিয়া মুক্ত করতে বিভিন্ন ধরনের ফিল্টার আবিস্কার করেছে। যা সাধারন মানুষের উপযোগী। এদিন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী (রাষ্ট্র) ডাঃ সুভাষ সরকার বলেন, “দুর্গাপুর সিএমইআরআই যা কিছু আবিষ্কার করেছে, সবই সমাজের উপযোগী। সারা ভারতে যেমন উপযোগী, তেমনই পশ্চিমবাংলাতেও উপযোগী।” বাঁকুড়া বেশ কিছু ব্লকের জলে ফ্লুরাইডের মত ব্যাকটেরিয়ার প্রাদুর্ভাব রয়েছে। সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“বাঁকুড়া লোকসভার মধ্যে ১৪ টি ব্লক ও বাকি বাঁকুড়া জেলার আর একটি লোকসভা এলাকার ৮ ব্লকের জলে এধরনের ব্যাকটেরিয়ার বিষয়টি শুনলাম। জেলাশাসকের সঙ্গে কথা বলব। যাতে ওই ২২ টি ব্লকের জলের নমুনা পরীক্ষা করানো হয়। তারপর কিভাবে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়া যায়, সেটা দেখা হবে।” 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *