রাজেন রায়, কলকাতা, ১ অক্টোবর: ২০২০ এবং ২০২১ সালে করোনা অতিমারীর ভয়াবহতার পর এখন অনেকটাই এগিয়েছে ভ্যাকসিনেশন প্রক্রিয়া। কিন্তু এখনও বিপদ সম্পূর্ণ কাটেনি, তা বারবারই স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০২০ সালে করোনা আবহে দুর্গাপুজো নিয়ে একাধিক গাইডলাইন জারি করেছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু চলতি বছরে কেমনভাবে হবে দুর্গাপুজো, তা নিয়ে সংশয় সাধারণ মানুষের মনে। সম্প্রতি হাইকোর্টে দায়ের হয়েছিল জনস্বার্থ মামলা। শুক্রবারও মামলার শুনানিতে আগের নির্দেশই বহাল রাখল হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবারই নবান্নের তরফে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকার। তবে ১০ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পুজোর দিনগুলিতে নাইট কারফিউয়ে ছাড় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এদিন হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, চলতি বছরেও দুর্গাপুজো নিয়ে আগের বছরের নির্দেশই বহাল থাকবে। ২০২০ সালের ১৯ অক্টোবর ও ২১ অক্টোবর করোনা আবহে দুর্গাপুজো নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছিল, তা মেনে চলতে হবে। ছোট পুজো ও বড় পুজোর ক্ষেত্রে মণ্ডপ চত্বরে ঢোকার সময় নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। পুজো মণ্ডপের বাইরে ব্যারিকেড করতে হবে। মণ্ডপের ভিতবে রাখা হবে মাস্ক ও স্যানিটাইজার। সাধারণ মানুষ মণ্ডপের ভিতর প্রবেশ করতে পারবেন না। নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখেই প্রতিমা দর্শন করতে হবে। বড় পুজোর ক্ষেত্রে মণ্ডপের ভিতরে পুজোর কাজে ২৫ জন এবং ছোট পুজোর ক্ষেত্রে ১২ জন নিয়োজিত থাকবেন। তাঁদের নামের তালিকা মণ্ডপের বাইবে টাঙিয়ে রাখতে হবে। এদিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দল আরও বলেছেন, মানুষের নিজস্ব সচেতনতা থাকা উচিত। সব আদালত নির্দেশ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।
হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে চলবে রাজ্য সরকার, শুক্রবার জানিয়ে দেন অ্যাডভোকেট জেনারেল সৌমেন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায়। অন্যদিকে আগে থেকে মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই এ বছরের পুজো প্রস্তুতি করছেন উদ্যোক্তারা। হাইকোর্টের নির্দেশ তাঁদের অসুবিধার কারণ হবে না, জানালেন পুজো কমিটির কর্মকর্তারা।
সব মিলিয়ে করোনা অতিমারীর আতঙ্ক কাটিয়ে যাতে সাধারণ মানুষ নিশ্চিন্তে পুজো দেখতে পারেন এবং ফের পুজোর কারণে যাতে সংক্রমণ বৃদ্ধি না পায়, তার জন্য সক্রিয় হাইকোর্টও। এদিন সেটাই স্পষ্ট গাইডলাইন বজায় রাখার নির্দেশে।

