স্বরূপ দত্ত, আমাদের ভারত, উত্তর দিনাজপুর, ২০ সেপ্টেম্বর: ঐতিহ্যবাহী বাহিন জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজো এখন সর্বজনীন দুর্গোৎসব। ছেড়ে যাওয়া ভগ্নদশাগ্রস্ত জঙ্গলাকীর্ণ প্রাসাদসম জমিদারবাড়ি এখন ক্ষীন দৃষ্টি নিয়ে অতীতের স্মৃতি আঁকড়ে রয়েছে। ফিরেও চেয়ে দেখেনা অতীতের জমিদারের আধুনিক বংশধরেরা। আর তাই একসময়ের এলাকার জমিদারের পুজোকে ধরে রেখেছেন রায়গঞ্জের বাহিন গ্রামের দুঃস্থ গরিব বাসিন্দারা। তবে গতবার করোনা আবহে গ্রামের মানুষের আর্থিক সংকটের কারণে সর্বজনীন বাহিন রাজবাড়ির পুজোতে ছিল না কোনও জাঁকজমক। এবার করোনা পরিস্থিতি কিছুটা স্তিমিত হওয়ায় জমিদার বাড়ির পুজো সারবেন বাহিন গ্রামের বাসিন্দারাই।
উত্তর দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়ির পুজোর মধ্যে অন্যতম পুজো ছিল রায়গঞ্জ ব্লকের বাহিন জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজো। অবিভক্ত বাংলাদেশের দিনাজপুরের জমিদার রুদ্র প্রতাপ চৌধুরীর জমিদারি ছিল বাহিন, কুমারজল, মাকড়া, মধুপুর, লহুজগ্রাম সহ বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে। নাগর নদীর ধার ঘেষে ছিল জমিদারের প্রাসাদোপম অট্টালিকা। আর জমিদারবাড়ির দুর্গাপুজোয় এলাকার প্রজাদের সাতদিন ধরে ভুড়িভোজ আর আমোদপ্রমোদের আয়োজন। সেই সময় বাহিন জমিদার বাড়ির দুর্গোৎসবে বসত যাত্রাপালার আসর, থিয়েটার, সার্কাস ও বিশাল মেলা। জমিদার রুদ্র প্রতাপ চৌধুরীর আমলে এই অঞ্চলের প্রজারা পুজোর কটাদিন কাটাতেন আমোদে প্রমোদে।

আজ নেই সেই জমিদার, আর জমিদারি প্রথা। জমিদার রুদ্র প্রতাপ চৌধুরীর উত্তরাধিকারীরা বাহিন জমিদারবাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছেন বহুদিন আগে। জমিদারের বাড়ি দান করে গেছেন ভারত সেবাশ্রম সংঘকে। এখনও এখানে পড়ে আছে ভগ্নদশাগ্রস্ত জঙ্গলাকীর্ণ প্রাসাদোপম অট্টালিকা। জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজো আর সমস্ত জাঁকজমকপূর্ণতা হারিয়ে এখন গ্রামের গরিব বাসিন্দাদের হাতে। ফিরেও তাকান না স্বর্গীয় জমিদারের শহুরে নবপ্রজন্মের বংশধরেরা। ঐতিহ্যের বাহিন জমিদার বাড়ির পুজো তাই এখন সর্বজনীন। এলাকার বাসিন্দারাই চাঁদা তুলে জমিদার বাড়ির ঠাকুরদালানে কোনওরকমে মায়ের আরাধনা করে চলেছেন। তবে ঐতিহ্যের ধারাকে অব্যাহত রেখে আজও দশমীতে মেলার আয়োজনটুকু করছেন আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষজন। আর ওই দশমীর মেলাটিকে আঁকড়ে ধরেই বাহিন জমিদার বাড়ির পুজোর ঐতিহ্য বজায় রাখার আপ্রাণ চেষ্টায় এলাকার বাসিন্দারা। বাকিটা সবটুকুই তো ধুলোয় ঢাকা মলিন স্মৃতি।

