সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৩ নভেম্বর: বাঁকুড়ার ‘চলমান ইতিহাস’ খ্যাত বড়জোড়া থানার মনোহর গ্রামের বাসিন্দা অজস্র দুষ্প্রাপ্য বস্তুর সংগ্রাহক দুর্গাদাস মন্ডল ৮২ বছর বয়সে বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টা নাগাদ দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর একমাত্র পুত্র চন্দন মন্ডল জানান, বাবা কোনোদিন ওষুধ খেয়েছেন বলে মনে করতে পারছি না। এই বয়সেও দু’চাকার সাইকেলটিই ছিল সঙ্গী। একটি চুলও পাকেনি, কিন্তু হঠাৎ করেই শরীরটা খারাপ হওয়ায় দুদিন আগে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে ভর্তি করে নেওয়া হয়।
গ্রামের বাসিন্দা নারায়ণ চন্দ্র খাঁ বলেন, এত বড় পন্ডিত ও সমাজ সচেতন মানুষ খুব কম জন্ম নেন। দুর্গাদাস মন্ডল ছিলেন তেমনই একজন। অশেষ কষ্ট স্বীকার ও অকাতর অর্থ ব্যয় করে জীবনভর তিনি সংগ্রহ করে গেছেন দেশি বিদেশী বহু দুষ্প্রাপ্য মুদ্রা, ডাক টিকিট, পত্র-পত্রিকা, দেশলাইয়ের বাক্স, সিগারেটের প্যাকেট ও গ্রন্থ সম্ভার। তার সংগ্রহে বিভিন্ন পন্ডিত মানুষের সম্পাদিত ২ শতাধিক গীতা রয়েছে। সংগ্রহে রয়েছে ১৮০টি দেশের মুদ্রা। ভারেতের সুলতানী আমল, মোঘল যুগ, ব্রিটিশ ভারত থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত যত রকম ভাবে মুদ্রার বিবর্তন ঘটেছে তা তাঁর সংগ্রহে রয়েছে। আর সেই অমূল্য সংগ্রহ গুলিকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতেই গড়ে তুলেছেন “পূর্ণানন্দ সংগ্রহশালা।”
পেশায় প্রাথমিক শিক্ষক তার আত্মকথায় লিখেছেন, দেশলাইয়ের খাপ কুড়িয়ে জড়ো করে রাখাটাই একসময় নেশায় পরিণত হয়। বহু গবেষণারত ছাত্রছাত্রীর আনাগোনা এই সংগ্রহশালায়। সারাজীবনের কোটি কোটি টাকার সম্পদ সম্প্রতি বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিয়েছেন। তার জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বেশ কয়েকটি বই লিখেছেন, যা অমূল্য সম্পদ। বিশিষ্ট সাহিত্যিক আইপিএস সুখেন্দু হীরার পরামর্শে তার সংগ্রহে থাকা দেশ বিদেশের কয়কশো মনিষীর উক্তি দিয়ে একটি সংকলন সম্পাদনা করেছেন। এই সংকলনটি সাহিত্য মহলে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। এদিনই তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

