আমাদের ভারত, ১০ আগস্ট: কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীকে সহানুভূতি দেখিয়ে সোনিয়া রাহুলকে কটাক্ষ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লোকসভায় অনাস্থা প্রস্তাবের জবাবের ভাষণে বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, কি হাল হয়েছে অধীরবাবুর? ওর দল ওকে বলতেই দেয়নি। কংগ্রেসের জন্য যে সময় বরাদ্দ ছিল তার মধ্যে ওর ভাগ্যে কিছুই জোটেনি। এরপর স্পিকার ওম বিড়লার দিকে তাকিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনি মহানুভব তাই কিছু অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ করেছেন অধীরবাবুর জন্য।”
প্রসঙ্গত, লোকসভায় বিতর্কের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংখ্যার ভিত্তিতে সময় বরাদ্দ করা হয়। কোন দল কত ঘন্টা বা কত মিনিট বলার সুযোগ পাবেন বা তাদের সাংসদ সংখ্যার ভিত্তিতে তা স্থির হয়। আবার কোনো দলের জন্য যে সময় বরাদ্দ হয় সেটা সেই দল তাদের এক বা একাধিক নেতার মধ্যে ভাগ করে দিতে পারে। সেই শর্তে অনাস্থা বিতর্কে কংগ্রেসের জন্য যে সময় ছিল, তাতে তিনজন সাংসদ বক্তব্য রাখেন, গৌরব গগৈ, মনিশ তিওয়ারি ও রাহুল গান্ধী। অধীর চৌধুরী লোকসভায় কংগ্রেসের নেতা হওয়া সত্ত্বেও কোনো বলার সুযোগ পাননি।
আর এ বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইতিমধ্যেই কটাক্ষ করেছেন। স্পিকার আজ অধীর চৌধুরীকে বক্তব্য রাখার জন্য কিছুটা সময় দেন। সেই বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশ্যে চাঁচাছোলা ভাষায় সমালোচনা করেন অধীর। প্রধানমন্ত্রী তখন ট্রেজারি বেঞ্চে বসে আছেন। অধীর বলেন, “কে বলেন নীরব মোদী বিদেশে পালিয়ে গিয়েছেন? নরেন্দ্র মোদী, মণিপুর প্রশ্নের নীরব মোদী হয়ে এদেশে বিরাজমান।” অধীর চৌধুরী আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী চাঁদ থেকে শুরু করে কুনোর চিতা নিয়ে কথা বলেন, অথচ মণিপুর নিয়ে কথা বলার সময় নেই ওনার।”
এই বক্তব্য রাখার পরেই অধীরের তীব্র সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গুড়কে কিভাবে গোবর বানাতে হয় সবচেয়ে ভালো জানেন অধীর। মোদী বলেন, কিন্তু আমার সবচেয়ে খারাপ লাগছে অধীর চৌধুরীকে কোণঠাসা করা হচ্ছে। কে জানে কলকাতা থেকে হয়তো ফোন এসেছিল। মোদীর কথায়, “এর আগেও একবার ফ্লোর লিডার পদ থেকে অধীরবাবুকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ওর প্রতি আমাদের সহানুভূতি রয়েছে।” কংগ্রেস তৃণমূলের সম্পর্ক নিয়ে এভাবেই কৌশলে সোনিয়া, রাহুল ও মমতাকে খোঁচা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে কংগ্রেস ও তৃণমূল এখন ইন্ডিয়া জোটে শামিল। কিন্তু এতে পশ্চিমবঙ্গের ঘরোয়া রাজনীতিতে অধীর চৌধুরী সমস্যায় পড়েছেন। তিনি এখনো ধারাবাহিকভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করে যাচ্ছেন। অথচ মমতার ফোন পেয়ে অধীরকে কোণঠাসা করছে কংগ্রেসের হাইকমান্ড।

