জুতো চটি দিয়ে থিম প্যান্ডেল সজ্জা! হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত,পুজো কমিটির বিরুদ্ধে এফআইআর, আইনি নোটিশ

আমাদের ভারত, ৯ অক্টোবর: কৃষক আন্দোলনের থিমে পুজো প্যান্ডেল সাজানো হয়েছে জুতো আর চটি দিয়ে। এরফলে হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগকে আঘাত করা হয়েছে। এই অভিযোগে দমদম পার্ক-ভারত চক্র পুজো কমিটিকে আইনি নোটিশ ধরিয়েছেন এক আইনজীবী‌ পৃথ্বীবিজয় দাস। এছাড়াও পুজো কমিটির বিরুদ্ধে এফ আই আর করেছেন আর এক আইনজীবী শান্তনু সিংহ।

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকা কৃষক আন্দোলনের ছবি তুলে ধরতে প্যান্ডেল সাজাতে জুতো ও চটির ব্যবহার করা হয়েছে দমদম পার্ক-ভারত চক্র সর্বজনীন পুজোর প্যান্ডেলে। কিন্তু মা দুর্গার মণ্ডপ কেন জুতো দিয়ে সাজানো হবে এই প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছে বিজেপি তথা হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। এই নিয়ে পুজো কমিটিকে পাঠানো আইনি নোটিশে পৃথ্বীবিজয় দাস লিখেছেন, “আমি নিজে একজন সনাতন হিন্দু। জুতো, হাওয়াই চটি দিয়ে প্যান্ডেল সাজানোর বিষয়টি আমি মেনে নিতে পারছি না। এই ধরনের ভাবনাচিন্তা আমার ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হেনেছে।” তার অভিযোগ, সাধারণ মানুষের ধর্ম বিশ্বাসে আঘাত হানতে গোটাটাই ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে। মণ্ডপ থেকে যদি শীঘ্রই জুতো চটি না সরিয়ে নেয় পুজো কমিটি তাহলে কোনও রকম আগাম বার্তা ছাড়াই পুজো কমিটির বিরুদ্ধে তিনি কড়া ব্যবস্থা নেবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

অন্যদিকে শান্তুনু সিংহ নামে আর এক আইনজীবী এই পুজো কমিটির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন। কলকাতা পুলিশ ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কাছে দুটি পৃথক ভাবে‌ এফ আই আর তিনি দায়ের করেছেন। এফআইআর-এ তাঁর বক্তব্য, “আমি একজন ধার্মিক হিন্দু। আমরা ধর্ম বিশ্বাস বলে, মাটির তৈরি মা দুর্গার মূর্তিতে দৈবশক্তি বিরাজ করে রয়েছে। দুর্গাপুজোর চার দিন সেই দৈবশক্তিকে বিভিন্ন প্যান্ডেলে পুজো করা হয়। ফলে সেই প্যান্ডেলগুলি হিন্দুদের কাছে মন্দিরের মতো পবিত্র স্থান হয়ে ওঠে। হিন্দুরা মা দুর্গাকে শুধুই মাটির পুতুল হিসেবে দেখে না। তাতে তারা প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে দেবীরূপে পুজো করেন। ফলে প্যান্ডেল তাদের কাছে সেই মুহূর্তে মন্দির হয়ে ওঠে। আর হিন্দুরা কোনও মন্দিরে কখনোই জুতো পরে ঢোকেন না। কিন্তু আমি সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি দমদম পার্ক ভারত চক্র সর্বজনীন পূজাকমিটি এবার “ধান দেবো না মান দেবো না” থিমে তাদের পুজো মণ্ডপ তৈরি করতে প্যান্ডেল জুতো দিয়ে সাজিয়েছেন। আমি আরও জানতে পেরেছি এই পুজো কমিটির সদস্যরা রাজ্যের শাসক দলের সাথে যুক্ত। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে আমাদের মতো ধার্মিক হিন্দুদের অপমান করছেন। আমাদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করছেন।”

শান্তনু সিং আরো অভিযোগ,”রাজ্য সরকারের তরফে প্রত্যেক পূজা কমিটিকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। এই অনুদানের টাকা এসেছে রাজ্যের কর প্রদানীদের অর্থ থেকে। আর এই করের বেশির ভাগটাই আমার মতো বহু ধার্মিক হিন্দুরা দিয়ে থাকেন। অথচ হিন্দুদের দেওয়া করের অর্থেই হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগেই আঘাত হানা হয়েছে। এককথায় হিন্দুদের অপমান করা হয়েছে।”

শান্তনুবাবু দাবি করেছেন, “যত শীঘ্র সম্ভব এই পুজো বন্ধ করতে হবে। কমিটির সদস্যদের গ্রেফতার করতে হবে। একই সঙ্গে এমন পদক্ষেপ প্রশাসনকে করতে হবে তাতে সেটি ভবিষ্যতে উদাহরণ হয়ে থাকে।” তিনি বলেন, এর আগে ২০১৯ সালে বেলেঘাটার একটি পুজোতে আজান বাজিয়ে এভাবেই হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছিল। সেই সময় তিনি ও তার সংগঠন হিন্দু সংহতি তার প্রতিবাদ করায় সেটা বন্ধ হয়।

পুজো কমিটির তরফে বলা হয়েছে, এবার তাদের পুজোর থিম দেশের কৃষক আন্দোলনকে উৎসর্গ করে করা হয়েছে। তাদের থিমের বক্তব্য ধান দেব না, মান দেব না। তাদের পরিকল্পনা ছিল সন্ন্যাসী, নীল, তেভাগা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিককালের কৃষক আন্দোলনকে তুলে ধরা। সাম্প্রতিক অতীতে ঘটে যাওয়া কৃষক আন্দোলনের ছবি তুলে ধরতে এই পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য প্যান্ডেলের প্রবেশের রাস্তার দিকে তারা ওইভাবে সাজিয়েছেন। চটি বা জুতো সেখানে একটি প্রতীকী বিষয়। কিন্তু মন্ডপের ভিতরে যেখানে মা রয়েছেন সেখানে কোথাও চটি নেই। গত ২১ বছর ধরে তারা নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো করে আসছেন কারো ভাবাবেগে আঘাত করা তাদের উদ্দেশ্য নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *