পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ১২ মে: খবরের জের, হিলিতে মালবোঝাই লরি থেকে তোলাবাজি করার অভিযোগে সরানো হল দক্ষিণ দিনাজপুরের আরটিও সন্দীপ সাহা’কে। শুক্রবার সরকারি একটি নির্দেশিকা জারি করে ওই পদে আনা হয়েছে সৌমিত্র বিশ্বাসকে।
এদিন বিকেলে যা প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো হইচই পড়েছে গোটা দক্ষিণ দিনাজপুরে। কেননা বেশকিছুদিন ধরে জেলার আঞ্চলিক পরিবহন দপ্তরের ওই আধিকারিকের বিরুদ্ধে মালবোঝাই লরি থেকে তিন হাজার টাকা করে তোলার অভিযোগ উঠেছিল। যে ঘটনা জানিয়ে জেলাশাসককে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন ট্রাক ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। আর এরপর এদিন তার বদলির অর্ডার সামনে আসতেই তুমুল হইচই পরিস্থিতি তৈরি হয় গোটা জেলাজুড়ে।

হিলির আন্তর্জাতিক বহিঃর্বাণিজ্য কেন্দ্র দিয়ে প্রতিদিন গড়ে দু’শোরও বেশি মাল বোঝাই লরি বাংলাদেশে যায়। যে লরিগুলি থেকেই তোলাবাজি চালাবার অভিযোগ উঠেছিল দক্ষিণ দিনাজপুরের আঞ্চলিক পরিবহন দপ্তরের আধিকারিক সন্দীপ সাহার বিরুদ্ধে। ঘটনা জানিয়ে জেলাশাসককে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন দক্ষিণ দিনাজপুর ট্রাক ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। তাদের অভিযোগ, আমদানি রপ্তানি ব্যবসায় স্লট বুকিং সিস্টেম চালু হবার পর থেকেই কিছুটা বেকায়দায় পড়েছেন লরি মালিকরা। বিগত ছয় মাস ধরে তাদের ব্যবসা না থাকায় চরম দূরবস্থার মধ্যে পড়েন তারা। অনেকেই ইতিমধ্যে লরি বিক্রি করে ফেলেছেন। সেইসব লরি চালকদের উপর যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা চাপিয়ে দিয়েছিলেন আরটিও।
তাদের আরও অভিযোগ, মাল বোঝাই প্রত্যেকটি লরির ক্ষেত্রে তিন হাজার টাকা এবং পাথর বোঝাই লরির ক্ষেত্রে ১২০০ টাকা করে তুলছিল আরটিও। যাদের দৌরাত্ম্যে লরি মালিকদের কার্যত নাভিশ্বাস ওঠবার জোগাড় হয়েছিল। যা দিতে অস্বীকার করলে মোটা অঙ্কের জরিমানাও করছিলেন ওই সরকারি আধিকারিক বলে অভিযোগ। আরটিও’র এমন তোলাবাজি বন্ধ না হলে আগামীতে লরি মালিকরা তাদের সমস্ত গাড়ির কাগজপত্র সরকারের কাছে তুলে দিয়ে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন।
প্রশ্ন উঠেছিল সরকারি চেয়ারে বসে একজন আধিকারিক কিভাবে এমন তোলাবাজি করছিলেন তা নিয়েই। যদিও ওই লিখিত অভিযোগ পাবার পরেই লরি মালিকদের কিছুটা আশ্বস্থ করেছিলেন দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক বিজিন কৃষ্ণা। আর এরপর শুক্রবার সন্ধ্যায় সরকারি একটি নির্দেশিকায় বদলে দেওয়া হয় ওই আরটিও’কে। সন্দীপ সাহার পরিবর্তে দক্ষিণ দিনাজপুরের আরটিওর দায়িত্বে আনা হয়েছে সৌমিত্র বিশ্বাসকে।

