স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ৩১ মার্চ: জমি বিবাদের জেরে রাতের অন্ধকারে চলল গুলি, আগুন ধরিয়ে দেওয়া হল দোকানে। প্রতিবাদে রাজ্য সড়ক অবরোধ এলাকাবাসীর। এই ঘটনায় অভিযোগের তীর এক জমি মাফিয়ার দিকে। ঘটনাস্থলে যায় বিশাল পুলিশবাহিনী। নদিয়ার কৃষ্ণনগরের কোতোয়ালি থানার জালালখালি এলাকার ঘটনা।
সূত্রের খবর, কৃষ্ণনগরের জালালখালিতে লিজা খান নামে এক মহিলার সম্পত্তির ওপর দীর্ঘদিন ধরে নজর ছিল জমি মাফিয়া রাজকুমার ঘোষের। রাজকুমার ঘোষ একসময় লিজা খানের কাছ থেকে এই সম্পত্তি কিনে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু পরে তা নেননি। তিনি ওই সম্পত্তি কিনবেন না বলে সেই সময় লিজা খানের পরিবারকে জানিয়ে দিয়েছিলেন।
অভিযোগ এর কিছুদিন পরেই রাজকুমার ঘোষ ওই সম্পত্তি নিজের দখলে নেওয়ার জন্য নকল নথিপত্র বানান বলে অভিযোগ। লিজা খানের পরিবারের কাছে এসে দাবি করেন ওই সম্পত্তি তার নিজের বলে। এরপর জোর করে ওই সম্পত্তি দখল নেওয়ার চেষ্টা করেন। বাড়ির সামনে গুলিও চালান।

লিজা খানের পরিবারের পক্ষ থেকে নকল দলিলপত্র দেখিয়ে জমি দখল ও গুলি চালানোর অভিযোগ দায়ের করা হয় কোতোয়ালি থানায় রাজকুমারের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় রাজকুমার ১৪ দিন জেল খাটে।
জেল থেকে আসার পরই জানতে পারে, সিদ্ধার্থ ঘোষ নামে এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ীকে ওই জমি বিক্রি করে দিচ্ছে লিজার পরিবার। তখন সে জোর করে সম্পত্তির দখল নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে।
গতকাল রাত ১০.৩০টা নাগাদ রাজ কুমার ঘোষ জনাপাঁচেক জন দুষ্কৃতী নিয়ে একটা চার চাকার গাড়িতে সিদ্ধার্থ ঘোষের বন্ধ দোকানের সামনে নামে। অভিযোগ এরপরই সিদ্ধার্থ ঘোষের বন্ধ দোকানে রাজকুমার ও তার সাঙ্গ-পাঙ্গোরা আগুন লাগিয়ে দেয়। আগুনের লেলিহান শিখা দেখে এলাকার লোক জড়ো হয়ে গেলে রাজ কুমার ও তার সঙ্গীরা তিনবার বন্দুকে ফায়ার করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
প্রতিবাদে আজ সকালে রাজ্য সড়ক অবরোধ করে এলাকাবাসী। তাদের দাবি, যেকোনও মূল্যেই হোক ওই জমি মাফিয়া ও তার সঙ্গীদের গ্রেফতার করতে হবে। এরপর ঘটনাস্থলে কোতোয়ালি থানার পুলিশ গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের আশ্বাসের পর অবরোধ উঠে যায়। পুলিশ অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে। পাশাপাশি কি কারনে এ ধরনের ঘটনা ঘটলো, ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

