প্রতীতি ঘোষ, ব্যারাকপুর, ১২ আগস্ট:
অলিম্পিকের মঞ্চে ভারতের প্রতিযোগীদের সাফল্যে গর্বিত গোটা দেশ। দারিদ্রতা সহ বহু প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে আজ দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন অনেকেই। আবার এই দারিদ্রতা এবং প্রতিকূলতার কারণে বহু প্রতিভা বিকশিত হওয়ার সুযোগই পায় না। এর জ্বলন্ত উদাহরণ নৈহাটির দুই বালক। চরম দারিদ্রতার কারণে জাতীয় স্তরের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অনিশ্চিত হয়ে গেছে দুই প্রতিভাবান।
জাতীয় স্তরের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মার্শাল আর্ট বিভাগে অংশগ্রহনের আগে জেলা ও রাজ্যের প্রাথমিক স্তরের ক্রীড়া প্রতিযোগিতাগুলিতে কৃতীসন্মান অর্জন করলেও, এবার দেশের হয়ে বিশেষ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণের ক্ষেত্রে বাধ সাধছে নৈহাটির দুই শিশুর। কারণ, চরম দারিদ্রতার জন্য অর্থের জোগান হয়নি।
‘রুরাল এমেচার গেমস’এর উদ্যোগে আগামী মাসের শুরুতে গোয়া’য় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে জাতীয় স্তরের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতাটি ভারত সরকারের “মিনিস্ট্রি অফ কর্পোরেট এফেয়ার্স” বিভাগ দ্বারা স্বীকৃত। এই খেলায় দেশের বিভিন্ন রাজ্যের বাছাই করা প্রতিযোগিরা অংশগ্রহণ করবে। নৈহাটি থেকে সেরা ১০ জন প্রতিযোগী এবছর এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে চলেছেন। কিন্তু, তাঁদের মধ্যে দুই জন খুদে শিশু- স্বর্নজিৎ রায় (৭) ও সঞ্জিত রায় (১০) অর্থাভাবের কারণে এই খেলায় অংশগ্রহণ করতে পারছে না। অতিমারীর সময়ে দিনআনি দিন খাই অবস্হায় কোনো ভাবে জীবন যাপন করছেন তারা। সেখানে গোয়াতে খেলতে গেলে ৫০ হাজার টাকা খরচ করতে হবে নৈহাটি মিত্র পাড়ার বাসিন্দা স্বর্ণজিৎ ও সঞ্জিতদের বাবা ও মা’কে।
স্বর্ণজিৎ ও সঞ্জিতর বাব পেশায় এক জন বৈদ্যুতিন মিস্ত্রি। মা সঙ্গীতা দেবী গৃহকত্রী। স্বর্ণজিৎ নৈহাটি মিউনিসিপাল স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র, এবং সঞ্জিত নৈহাটি মাহেন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্যারাটেতে বিশেষ ভাবে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে তারা। জেলা তথা রাজ্যস্তরের খেলাতে তারা বহু সংস্থার থেকে কৃতী সন্মান অর্জন করেছে। বর্তমানে সঞ্জিত রেড বেল্ট প্রাপ্ত। সারাদিনে চার থেকে পাঁচ ঘন্টা দুই ভাই অনুশীলন করে থাকে।

আগামী ৪ঠা সেপ্টেম্বর থেকে গোয়ায় এই খেলা অনুষ্ঠিত হবে। এমাসের ১৫ই অগাস্ট প্রতিযোগিতায় নাম নথিভুক্তকরণের শেষ দিন। নাম নথিভুক্ত করতে প্রতিযোগী পিছু পাঁচ হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছে। এর পরেও যাতায়াত ও থাকাখাওয়া বাবদ আরও বেশ কয়েক হাজার প্রয়োজন। আর্থিক অসঙ্গতির কারণে তাই প্রবল দুশ্চিন্তাগ্রস্ত সঙ্গীতা দেবী। তিনি বলেন, আমাদের আর্থিক অবস্থা ভালো না। দুই ছেলেরই নাম এই প্রতিযোগিতা আছে। কিন্তু অর্থে জন্য আমরা যেতে পারছি না। তবে আমাদের ইচ্ছা আমাদের ছেলেরা বাইরে খেলে আমাদের রাজ্যের নাম উজ্জ্বল করুক। কিন্তু ৫০ হাজার টাকা যোগাড় না হলে আমরা দুই ছেলেকেকে ওই প্রতিযোগিতায় নিয়ে যেতে পারবো না।

