পার্থ খাঁড়া, আমাদের ভারত, পশ্চিম মেদিনীপুর, ৩ অক্টোবর: গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির জেরে চন্দ্রকোনা দু’নম্বর ব্লকের শ্যামগঞ্জ গ্রামে নূর মহম্মদ আলীর একটি তিনতলা মাটির বাড়ি গতকাল রাতে হুড়মুড়িয়ে ভেঙ্গে পড়ে। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পায় পরিবারের সদস্যরা। ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়।

যদিও পরিবারের সদস্য ও এলাকার মানুষজনদের দাবি, ঘটনার সময় বাড়ির সদস্যরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে পারলেও বাড়ির সমস্ত আসবাবপত্র চাপা পড়ে গেছে বাড়ির নিচে। বর্তমানে গৃহহীন ওই পরিবারের সদস্যরা।
তাদের দাবি, বারবার প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েও মেলেনি আবাস যোজনার বাড়ি। যার কারণে এতোবড়ো দুর্ঘটনা।
এই ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রশাসনের আধিকারিকরা এসে উপস্থিত হন ঘটনাস্থলে। তিন দিন ধরে ঝাড়খন্ডে প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে সেই জল দুর্গাপুর ব্যারেজ ও অন্যান্য ব্যারেজগুলি ধরে রাখতে না পারায় প্রচুর পরিমাণে জল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ। তার ফলে রাজনগর গ্রাম ও জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া শিলাবতী নদীর জলস্তর বেড়েই চলেছে, কমার নাম নেই। এই জল বাড়তে বাড়তে রাজনগর গ্রামের দিকে আগের বছর ভেঙ্গে যাওয়া হানাপড়া স্থান দিয়ে জল ক্রমশ ঢুকছে। এই জল ঢুকে প্রায় ৬ থেকে সাতটি গ্রামকে জলের তলায় তলিয়ে নিয়ে যায়। ফলে স্থানীয় মানুষের জীবন দুর্দশারগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। চন্দ্রকোনা -১ ব্লকের বিস্তির্ণ এলাকা জলমগ্ন।

পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনা ১ ব্লকের সমস্ত চাষের জমি জলের তলায়। ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় চাষিরা। আগামী দিন কিভাবে খাবার জোগাড় করে জীবন ধারন করবেন এই নিয়ে চিন্তিত চাষিরা। জলস্তর যে ভাবে বেড়ে চলেছে তাতে ক্ষতি হতে পারে বসত বাড়িগুলিরও।

