ইলেক্ট্রনিক বাদ্যযন্ত্রের যুগে সঙ্কটে ঢাকিরা,  রুজি বাঁচাতে ঢাক উৎসব দুর্গাপুরে

জয় লাহা, আমাদের ভারত, দুর্গাপুর, ৪ অক্টোবর: করোনা আবহে লকডাউনে রুজিতে টান পড়েছে। তার ওপর ইলেক্ট্রনিক বাদ্যযন্ত্রের বাজারে ডাক পড়ছে না ঢাকিদের। ফলে রুজি হারিয়ে বিকল্পের সন্ধানে ছুটছে রাজ্যের বাদ্যকাররা। এবার ওই ঢাকিদের রুজি বাঁচাতে ঢাক উৎসব শুরু করল দুর্গাপুরের এক সেচ্ছসেবী সংগঠন। 

হিন্দু রীতিতে পুজো পার্বনে, নানান সামাজিক অনুষ্ঠানে, শুভ কাজের শুরুতে ঢাকের বাদ্যি ব্যাবহার করা হয়ে থাকে। এই বাজনার ওপর পশ্চিমবাংলায় বহু মানুষ জীবীকা নির্বাহ করে থাকে। বাদ্যকার ছাড়াও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষ প্রশিক্ষণ নিয়ে ঢাকিদের দল তৈরী করেছে। এমনকি মহিলারাও দল তৈরী করেছে। গত দু’বছর ধরে করোনার মারণ থাবায় সিঁটিয়ে গোটা বিশ্ব। দফায় দফায় লকডাউনে রুজি হারিয়েছে বিভিন্ন পেশার মানুষ। ঢাকের বাজনার সঙ্গে যুক্ত সম্প্রদায়রা সঙ্কটে। তার ওপর ইলেক্ট্রনিক বাদ্যযন্ত্র অনেকটাই কেড়ে নিয়েছে তাদের পেশা। স্বয়ংক্রিয় এই যন্ত্রে একইরকমভাবে পুজোর সময় ঢাকের সুর উঠে আসছে। স্বস্তায় বিভিন্ন মন্দিরে ওইসব যন্ত্র বসানো হয়েছে। তাতেই সঙ্কটে রাজ্যের ঢাকিরা। আর ওই সঙ্কটে ঢাকিদের পাশে দাঁড়ালো দুর্গাপুরের ওম সাঁই ট্রাস্ট। সোমবার দুর্গাপুর সিটিসেন্টারে ঢাকিদের নিয়ে মেলা করল ওই সেচ্ছাসেবী সংগঠন। তাতে যোগ দিয়েছিল শিল্প শহরের বিভিন্ন এলাকার ৩০ জন ঢাকি। ঘন্টাকয়েকের উৎসবে তাদের ঢাকের সুর তুলে মাতিয়ে তোলে ঢাক উৎসব। পুজোর সময়ের একরকম বাজনা, বিসর্জনের একরম সুর। বিয়ের অনুষ্ঠানের একরকম সুর। সবই তুলে ধরে ওই উৎসবে। আবার ঢাকের বাজনার প্রথম দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারিদের পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়াও প্রত্যেককে উপহার তুলে দেওয়া হয়।

সংগঠনের পক্ষে পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায় জানান, “লকডাউনের পাশাপাশি ইলেক্ট্রনিক বাদ্যযন্ত্রের দাপটে সঙ্কটে বাংলার ঢাকিরা। তাই বাংলার এই সংস্কৃতি ঐতিহ্য যাতে হারিয়ে না যায়। তাই এই পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোই মূল লক্ষ্য। উৎসবের মাধ্যমে তাদের এক ছাতার তলায় আনা হয়েছে। সেখানে তাদের বাজনার সুর দেখে ঐতিহ্য মেনে বিভিন্ন পূজো উদ্যোক্তরা যাতে তাদের দিয়ে পুজোয় ঢাক বাজানো করায় তাই ঢাক উৎসব। তাহলে এইসব মানুষগুলো কিছুটা হলেও সঙ্কট মুক্ত হবে। সারা বছরে দুর্গাপুজোর দিকে তাকিয়ে থাকেন এই ঢাকি পরিবারগুলি। তাই ইলেক্ট্রনিক নয় ঐতিহ্য ও রীতি মেনে ঢাকিদের দিয়ে উঠুক ঢাকের বাজনার সুর।”   

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *