আমাদের ভারত, ১ জুলাই: রথের দিনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বিজেপি আগে জানায়নি যে, তারা এক আদিবাসী মহিলাকে প্রার্থী করছে। তাহলে আমরা অন্যভাবে ভাবতাম। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন দ্রৌপদী মুর্মুর জয়ের সম্ভাবনাই বেশি।
শুক্রবার দুপুরে রথযাত্রা উপলক্ষ্যে কলকাতা ইসকন মন্দিরে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “বিজেপি যে আদিবাসী মহিলাকে প্রার্থী করবে সেটা আমরা আগে জানতাম না। আমি আদিবাসী দলের সবাইকে সমর্থন করি। আমার অন্যরকম সেন্টিমেন্ট কাজ করে। এনডিএ যে দ্রৌপদী মুর্মুকে প্রার্থী করবে সেটা আগে জানলে অন্যভাবে ভাবতাম।”
এরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “দ্রৌপদী মুর্মুর জেতার সম্ভাবনাই বেশি।” একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, “বিরোধী দলগুলি মিলে একটি সিদ্ধান্তে আসা হয়েছে। ফলে প্রার্থী প্রত্যাহারের কথা সবাই না বললে একা ফিরে আসা সম্ভব নয়। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য যে অত্যন্ত ইঙ্গিতবাহী তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
রাষ্ট্রপতি পদের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়ে বেরিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেছিলেন এনডিএ প্রার্থী দ্রৌপদী মুর্মু। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মমতার সমর্থন চেয়ে ফোন করেন তিনি। পাল্টা সৌজন্য জানিয়েছিলেন মমতা। এরপর রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর তরফেও দ্রৌপদী মুর্মুকে সমর্থন করার জন্য চিঠি গিয়েছে রাজ্যের সমস্ত বিধায়ক ও সাংসদদের কাছে। তার একটি চিঠি গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও। সেই চিঠি প্রকাশ করে সাংবাদিক বৈঠকেই বিজেপি রাজ্য সভাপতি দাবি করেছিলেন, ভিন্ন রাজনৈতিক দলে থাকা সত্ত্বেও সমস্ত জনজাতির বিধায়করা তাদের জনজাতি প্রার্থীকে সমর্থন জানাবেন। একইসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীকেও তারা আবেদন জানাবেন সমর্থনের জন্য। কিন্তু মমতা বলেন “মহিলা প্রার্থী হলে আমরা সব সময় রাজি, বিজেপি যদি জানাত একজন আদিবাসী মহিলাকে প্রার্থী করছে তাহলে আমরাও বিরোধী দল মিলে চেষ্টা করতাম বৃহত্তর স্বার্থে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে। তা দেশের পক্ষে ভালো হতো। একসময় এপিজে আবদুল কালাম হয়েছেন।
এদিকে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিজ্ঞাসা করেনি কাকে প্রার্থী করা হবে? কিংবা একসাথে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও বলেননি। আমি তো প্রথমেই দেখেছি মিটিং করে সবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘোষণা করছেন তিনি নিজেদের প্রার্থীর কথা। তখন কি বিজেপিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন? উনি প্রথমে উদ্যোগ নিয়েছিলেন তখন নির্বাচন ঘোষণা হয়নি। তিনি তখনই জানতেন তার প্রার্থী জেতার সুযোগ নেই। কারণ এখন তার সঙ্গীরা একে একে তাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে। এর ফলে দ্রৌপদী মুর্মু খুব ভয়ঙ্কর ভাবে হারবে।

