অশোক সেনগুপ্ত
আমাদের ভারত, ১৮ ডিসেম্বর: পুরভোটে তৃণমূল প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পর উল্লেখযোগ্য যে ৪টি আসনে দলের জোর অশান্তি শুরু হয়, ১০৩ নম্বর ওয়ার্ড তার অন্যতম। রীতিমত রাস্তা অবরোধ করে চলে বিক্ষোভ। বিভিন্ন সংবাদ চ্যানেলে তা ফলাও করে দেখানো হয়। দফায় দফায় আপোষ-বৈঠকের পর তার অনেকটাই নিরসন হয়েছে।
তৃণমূল প্রার্থী ডঃ সুকুমার দাসের দাবি, “সব কিছু ঠিক হয়ে গিয়েছে।“ যদিও অন্দরের খবর, দলীয় নেতৃত্বের হুঁশিয়ারির পরেও অসন্তোষ কমেনি বিক্ষুব্ধ শিবিরের। এ সবের পরেও এই ওয়ার্ডে ভোটের প্রচারে অনেকটাই এগিয়ে তৃণমূল।
১০৩ ওয়ার্ডে মূল রাস্তা সন্তোষপুর অ্যাভিনিউয়ের এ মাথা থেকে ও মাথা দু’পাশে তৃণমূলের প্রচার ফলক। প্রার্থীর ছবির সঙ্গে তৃণমূলনেত্রী-অভিষেক-দেবব্রত-অরূপের ছবি। পুরভোটে বাকি প্রার্থীদের প্রচার সে তুলনায় যৎসামান্য। সুকুমারবাবু আক্ষরিক অর্থেই ভূমিপুত্র। বয়স ৬৮। জন্ম সন্তোষপুরে। এলাকার আদিলগ্নে তাঁর কাকা বলাই দাস ছিলেন সুপরিচিত চিকিৎসক। ঋষি অরবিন্দ, যাদবপুর হাইস্কুল ও যাদবপুর বিদ্যাপীঠের পর চারুচন্দ্র কলেজ (’৭১-’৭৪)। জীববিজ্ঞানে স্নাতক। এর পর এমবিবিএস। পাশ করে সরকারি পরিষেবায়। ডিপিএইচ (ডিপ্লোমা ইন পাবলিক হেল্থ) করে প্রশাসনে। ২০১৪-তে অবসরের পর চার বছরের জন্য পুনর্নিয়োগ। ’১৮ থেকে পুরসভার চিকিৎসক হিসাবে যোগদান। তাতে ইস্তফা দিয়ে প্রার্থী হয়েছেন।
বিক্ষুব্ধদের অভিযোগ, উনি উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন। তৃণমূলের কোনও কাজে আগে কখনও দেখা যায়নি। এ ব্যাপারে সুকুমারবাবু বলেন, “কথাটা সর্বৈব ভিত্তিহীন। কলেজে পড়াকালীন সুব্রত মুখোপাধ্যায়-লক্ষ্মী বসুর হাত ধরে ছাত্র পরিষদের সক্রিয় কর্মী হিসাবে যোগ দিই। সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক, সহ সম্পাদকের পদে ও পরে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ছাত্র সংগঠনের সভাপতি ছিলাম। কর্মজীবনেও প্রোগ্রেসিভ ডক্টর্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি (২০১৩-’১৪) ছিলাম।“
কিন্তু রাজনীতি মানে তো অনেকটাই গণসংযোগ আর সমাজসেবা? এতে কতটা স্বচ্ছন্দ আপনি? সুকুমারবাবুর জবাব, “দীর্ঘদিন ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন করেছি। টালিগঞ্জ শাখার দায়িত্বে ছিলাম। সুতারাং যোগ্যতার নিরিখে কোনও ঘাটতি থাকার কথা নয়।“
আগামী পুরভোটে ১০৩ ওয়ার্ডে বিদায়ী কাউন্সিলার সিপিএমের নন্দিতা রায়, বিজেপি-র সন্দীপ বাগচি, কংগ্রেসের দেবজ্যোতি দাস— এঁদের তৃণমূল-বিরোধী ভোট ভাগাভাগি সুকুমারবাবুর জয়ের সহায়ক হবে বলে মনে করছেন অনেকে। জিতলে কিসে অগ্রাধিকার দেবেন? “মূলত পানীয় জল ও নিষ্কাষণ— এ দুটোয়। এ ছাড়া নানা দিকে আরও উন্নয়ন সম্ভব“, জানান সুকুমারবাবু।
জনশ্রুতি, প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্রোহ দেখায় ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতা তথা দলের দক্ষিণ কলকাতা জেলা তৃণমূলের সম্পাদক সঞ্জয় দাস। ২০১৫-তে পুরভোটে তৃণমূল প্রার্থী হন তাঁর স্ত্রী। হেরে যান। সূত্রের খবর, সঞ্জয়বাবু এবার দলের প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। তিনি অবশ্য এই প্রতিবেদককে বলেন, “বিক্ষোভের সময় অসুস্থ হয়ে আমি হাসপাতালে ছিলাম। তাই বিক্ষোভের কিছু জানি না। দল এবং মমতা ব্যানার্জি আমাদের কাছে একটা আবেগ। আমরা সৈনিক হিসাবে নেতৃত্বের নির্দেশ তালিম করি।“ প্রার্থীকে জেতানোর ব্যাপারে আপনি কি আদৌ সক্রিয়? সঞ্জয়বাবুর জবাব, “আমি অসুস্থ। তার মধ্যেই রিক্সা করে দল যেখানে বলছে এক-আধ জায়গায় যাচ্ছি।“

