আমাদের ভারত, ১৬ মে: করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে কেন্দ্র হোক বা রাজ্য সব সরকারই যে নাকানি-চুবানি খাচ্ছে তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু এই কাজ করতে গিয়ে রাজ্যের তুলনায় অনেক বেশি সমালোচিত হচ্ছে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। এমনকি এই সমালোচনায় ধাক্কা লেগেছে ব্র্যান্ড মোদীতেও। তবে এক সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডক্টর দেবি শেঠি স্পষ্ট করেই বলেছেন, সরকারকে এভাবে দোষ দেওয়া ঠিক নয়। করোনার এই পরিস্থিতি আমেরিকাও সামাল দিতে পারত না।
ভারতের এই বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের কথায়, “আমি জানি বহুলোক সরকারের সমালোচনা করছে। কিন্তু যে সংখ্যায় গোটা দেশে মানুষ আক্রান্ত হয়েছে তাতে অন্য কোনো দেশের কথা ছেড়ে দিন আমেরিকাও সামলাতে পারত না। কারণ সংখ্যাটা বিপুল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল।” এই বিশিষ্ট হার্ট সার্জেন বলেছেন, “এটা অস্বীকারের কোনও উপায় নেই যে মানুষকে ভুগতে হচ্ছে। তবে এটাও ঠিক সরকার অক্সিজেন সরবরাহের জন্য দিনরাত এক করে দিয়েছে। এত বিপুল সংখ্যায় মানুষ আক্রান্ত হলে যেকোনো স্বাস্থ্য পরিকাঠামো মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য।”
ভারতে করোনা সংক্রমনের শুরুতে গোটা দেশবাসীকে এব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন ডক্টর শেঠি। এদেশে চিকিৎসক হিসেবে তাঁর সুনাম যথেষ্ট, অনেক মানুষই তার বক্তব্য এবং মতামতকে গুরুত্ব দেন। ফলে তাঁর মত শুনে কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে দেশের শাসক দল। কারণ তিনি একেবারে খোলাখুলি সরকারের উদ্যোগের স্বীকৃতি দিয়েছেন।
ওই সাক্ষাৎকারে ডক্টর শেঠি বলেছেন, কোভিডের এই ঢেউ ভারত সামলে নিতে পারবে। তবে তার জন্য টিকাকরন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু হওয়া দরকার। কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথভাবে একটি কমিটি গঠন করা উচিৎ যে কমিটি ভ্যাকসিন কিনবে ও সরবরাহ করবে। তার কথায় পিপিই ছাড়াই ভারত কোভিডের মোকাবিলা করতে শুরু করেছিল। দেশে তখন মাত্র কুড়ি হাজার ভেন্টিলেটর ছিল। তার মধ্যেও বেশিরভাগ ছিল অকেজো। সেই অবস্থা থেকে ভারত এখন ভেন্টিলেটর রপ্তানি করছে। অতএব এই ঝড়ও ভারত সামলে উঠতে পারবে। শুধু তার জন্য সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা দরকার।
তার মতে এই টিকাকরন প্রক্রিয়া শুধু সরকারি ব্যবস্থাপনায় হবে না। এক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। কারণ বেসরকারি হাসপাতালগুলো ২৪ ঘন্টা নিজেদের কাজ চালিয়ে যায়। তাই তারা চাইলে রাত দুটোতে অ্যাপোয়েন্টমেন্ট দিয়েও ভ্যাকসিন দিতে পারে। একটি বড় বেসরকারি হাসপাতালে ক্যাম্পাস থেকে দিনে ২৬ হাজার মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
একইসঙ্গে তিনি বলেছেন কোভিডের তৃতীয় ঢেউ যদি আসে দেশে তাহলে তাতে বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা ২ থেকে ১২ বছরের শিশুদের। তিনি বলেন, “আমি এপিডেমিওলজিস্ট, ভায়ারোলজিস্ট নই, তবে মহামারীর চরিত্র সম্পর্কে আমার যে জ্ঞান রয়েছে সেই ভিত্তিতে তা মনে করছি আগামী বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত করোনা কমবেশি ভোগাবে তিনি বলেন, তৃতীয় ঢেউ এলে শিশুদের নিয়ে চিন্তা সবচেয়ে বেশি থাকবে, কারণ ততদিনে বয়স্কদের টিকাকরণ হয়ে যাবে। অধিকাংশের ইমিউনিটি থাকবে। কিন্তু শিশুদের টিকাকরন তখনো হবে না। তাই তাদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। সেই জন্যই কম বয়সী বাবা-মায়ের টিকাকরণে সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে এখন থেকে।

