আমাদের ভারত, ৫ মার্চ: অনুব্রত মণ্ডলকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব কার? রাজ্য পুলিশের নাকি ইডির? এই প্রশ্ন খুঁজতেই কেটে গেছে গোটা দিন। ফলে রবিবার দিল্লি যাওয়া হয়নি অনুব্রতর। রাজ্য পুলিশ এই দায়িত্ব নিতে পারবে না জানানোর পরেই শুরু হয়ে যায় টানাপোড়েন। কিন্তু কেন রাজ্য পুলিশ এই দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছে? এই ঘটনায় বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তার দাবি, অনুব্রত মণ্ডলের দিল্লি যাওয়া আটকাতেই এই সব করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি এও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, রাজ্য পুলিশের উপস্থিতিতে বড় কোনো ক্ষতিও হয়ে যেতে পারে কেষ্টর।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, এ বিষয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবেই রাজ্য সরকার সম্পূর্ণভাবে অসহযোগিতা করছে। রাজ্য সরকারের পুলিশ ইচ্ছাকৃত সুরক্ষা দিচ্ছে না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা যথেষ্ট সন্ধিহান অনুব্রত মণ্ডলের বড় কোনো ক্ষতিও হতে পারে রাজ্য পুলিশের উপস্থিতিতে। কারণ অনুব্রত মণ্ডল যদি দিল্লিতে যায় এবং সে যদি মুখ খোলে তাহলে ধেঁড়ে ইঁদুর বলুন, বা বড় মাথা বলুন, সবাই আস্তে আস্তে খাঁচায় ঢুকবে এবং তাদের সকলের দিল্লি যাত্রা হবে।”
প্রসঙ্গত, রাজ্য পুলিশের টালবাহানার কথা এবং ইডির সঙ্গে টানাপোড়েনের কথা জানিয়ে সোমবার আসানসোলের বিশেষ সিবিআই আদালতে আবেদন জানাতে চলেছে আসানসোল জেল কর্তৃপক্ষ। সেখানে ফয়সালা হবে আদতে কার হাত ধরে দিল্লি পাড়ি দেবেন কেষ্ট।
কেষ্টকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ইডিকে সবুজ সংকেত দেয় আদালত, কিন্তু একই সঙ্গে জানিয়ে দেয় অনুব্রতকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার আগে কলকাতার কেন্দ্রীয় কোনো হাসপাতালে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। সেই রিপোর্ট পাওয়ার পরেই ইডির হাতে তুলে দেওয়া হবে কেষ্টকে। সেই রায় আসানসোল জেলে পাঠিয়ে জানতে চাওয়া হয় কখন কলকাতার উদ্দেশ্যে অনুব্রতকে রওনা করবে জেল কর্তৃপক্ষ? সেই মতো জেল কর্তৃপক্ষ দুর্গাপুর- আসানসোল পুলিশ কমিশনারেটের কাছে রিকুজেশন পাঠায়, কিন্তু তার উত্তরে জেল কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হয় অনুব্রত মণ্ডলকে কলকাতার কেন্দ্রীয় হাসপাতালে চেকআপ করিয়ে দিল্লি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব রাজ্য পুলিশের নয়। হাইকোর্টের নির্দেশে সেই কথা কোথাও উল্লেখ করা নেই যে রাজ্য পুলিশকে অনুব্রতকে দিল্লি পৌঁছে দিতে হবে। পুলিশের বক্তব্য ইডির আধিকারিকদের জানিয়ে দেন জেল কর্তৃপক্ষ।
একই সঙ্গে জানানো হয়, জেলের যেহেতু নিজস্ব কোনো বাহিনী নেই, তাই যেন ইডি নিজে অনুব্রতকে নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করে। অন্যদিকে জেল কর্তৃপক্ষের সেই চিঠির উত্তরে ইডি পাল্টা জানায়, অনুব্রতকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব তাদের নয়। যেভাবে সায়গেল হোসেনকে দিল্লি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেভাবেই রাজ্য পুলিশ অনুব্রতকে দিল্লি পৌঁছে দেবে।

