সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১০ জুলাই: চাষরোড এলাকার পাম্পে কাজ করে ফিরে আসার সময় কাল রাতে দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হলেন বাবা–ছেলে। ঘটনাটি ঘটেছে পুরুলিয়া মফস্বল থানার কানালি গ্রামের কাছে। ঘটনার প্রতিবাদে আজ সকাল থেকে ৩২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধে করে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসী।
স্থানীয়দের দাবি, পথেই ডাকাতির পর বাবা ও ছেলেকে খুন করে আততায়ীরা। ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাবা ও ছেলেকে কুপিয়ে খুন করা হয়। তাঁদের সঙ্গে থাকা টাকার ব্যাগ এবং মোবাইল নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। জোড়া খুনের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বাবা ও ছেলের দেহ পুলিশ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। এদিকে, খুনের ঘটনার প্রতিবাদে পুরুলিয়া মফস্বল থানার আইমুণ্ডি মোড়ে ধানবাদ-জামশেদপুর ৩২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা।

ষাটোর্ধ্ব মদন পাণ্ডে পুরুলিয়ার চাষ মোড়ে পেট্রল পাম্পের ম্যানেজার। তাঁর বছর ছত্রিশের ছেলে কানাই পেট্রল পাম্পের ওয়ে সেকশনের কর্মী ছিলেন। শনিবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ ছেলের মোটরবাইকে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন মদনবাবু। পুরুলিয়ার মফস্বল থানার কানালি গ্রামের কাছে ফাঁকা মাঠের কাছে পৌঁছনোর পরই বিপত্তি। অভিযোগ, ডাকাতির উদ্দেশে জড়ো হওয়া বেশ কয়েকজন তাঁদের পথ আটকায়। বাবা ও ছেলেকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপায়। রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তাঁরা। এরপরই ওই ব্যবসায়ী ও তাঁর ছেলের কাছে থাকা টাকা এবং মোবাইল নিয়ে চম্পট দেয় ডাকাতদল। খুনের সময় বাবা এবং ছেলের চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ি থেকে বেরোন। তাঁরা দেখেন, ফাঁকা মাঠে রক্তারক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে বাবা ও ছেলের দেহ। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। তড়িঘড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। জেলাজুড়ে তড়িঘড়ি নাকা তল্লাশি শুরু হয়।

ব্যক্তিগত কোনও কারণ কিংবা শুধুমাত্র ডাকাতির উদ্দেশে খুন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ডাকাতির উদ্দেশে খুন করা হয়েছে দু’জনকে। তবে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছুই বলতে পারছেন না পুলিশ।

