পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৩ নভেম্বর: দীপাবলিতে দুশ্চিন্তার ছায়া কেন্দ্রীয় কর্মীদের মধ্যে। রাজ্যজুড়ে এক সাথে বন্ধ হচ্ছে একাধিক দূরদর্শনের রিলে সেন্টার। যা নিয়ে সরকারি নির্দেশিকা পৌঁছাতেই ক্ষোভের সুর বালুরঘাটে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বালুরঘাটের হোসেনপুরে অবস্থিত দূরদর্শন স্টেশনটি তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যা সামনে আসতেই কেন্দ্রীয় ওই নির্দেশিকার বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন রাজ্যের কৃষি বিপনন মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র। এটা শুধু রাজ্যের নয়, গোটা দেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক একটি সিদ্ধান্ত বলেও ব্যাখা করেছেন মন্ত্রী।
বিপ্লব মিত্র বলেন, এটা একটা অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের। সভ্যতার বিকাশের সাথে সাথে এসবেরও বিকাশ ঘটে খুব স্বাভাবিক নিয়মেই, কিন্তু কখনো তা বন্ধ করা হয় না। এই সরকার যে কি করতে চাইছে সেটাই মানুষ বুঝতে পারছে না। এই সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হল, কি জন্য নেওয়া হল? তাতে দেশের মানুষেরই বা কি লাভ হল? এসবের উত্তর দেবার দায়িত্ব এখন তাদেরই।

জানাগেছে, সীমান্ত এলাকাগুলিতে জাতীয় সংস্কৃতি তুলে ধরতে এবং জাতীয়তাবোধ বৃদ্ধি করতে কেন্দ্রের নির্দেশেই এই দূরদর্শন স্টেশনগুলি খোলা হয়েছিল। রাজ্য জুড়ে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ১৫ টিরও বেশি এমন স্টেশন রয়েছে। যেখান থেকেই সীমান্ত এলাকাগুলিতে সম্প্রচার চালাতো দূরদর্শন। সীমান্ত এলাকার মানুষ যাতে প্রতিবেশী দেশ অর্থাৎ বাংলাদেশের কালচারে আসক্ত না হয়ে পড়ে সেই লক্ষ্যে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সময়ে উন্নত প্রযুক্তির সাথে তাল না মিলিয়ে স্টেশনগুলি তুলে নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। গোটা দেশ ও রাজ্যের সাথে সাথে বন্ধ হচ্ছে বালুরঘাট দূরদর্শন স্টেশনও। আর যাকে ঘিরেই সাধারণ মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক ক্ষোভের।
বালুরঘাট শহরের বাসিন্দা জয় নিরুপম ভাদুড়ি বলেন, কেন্দ্রের এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসা উচিত। দেশের সংস্কৃতি রক্ষায় যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চালু রাখা উচিত দূরদর্শন স্টেশনগুলি।
বালুরঘাট দূরদর্শন স্টেশনের ম্যানেজার অমিতাভ কর্মকার জানিয়েছেন, বর্তমান প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে বিনামূল্যে সীমান্ত এলাকার মানুষদের এই পরিষেবা দেওয়া যেত। তাতে করে কেন্দ্রের উদ্দেশ্য সাধন হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানও বাড়ত। যা বন্ধ করার কড়া নির্দেশিকা এসে পৌছেছে। তবে এফএম সেন্টার চালু থাকছে।

