“শিবলিঙ্গে কন্ডোম না পরিয়ে যেখানে লাগানোর সেখানে লাগান কাজে দেবে,” নাম না করে সায়নীকে আক্রমন সুকান্ত’র

জয় লাহা, আমাদের ভারত, দুর্গাপুর, ২৬ নভেম্বর: ‘তৃণমূলের বন্ধুরা ৫০০ টাকার জন্য পতাকা লাগাচ্ছেন। তাতে কি সংসার চলে। তোর বউয়ের জন্য ৫০০ টাকা। ওদিকে পার্থদার বউয়ের জন্য কোটি কোটি টাকা ঢুকিয়েছে। তাও আবার হাফ বউ। বিজেপি ক্ষমতায় আসলে ২ হাজার টাকা করে প্রতিমাসে দেবে।’ শনিবার পান্ডবেশ্বরের ঝাঁঝরা কোলিয়ারী ময়দানের জনসভা থেকে এভাবে তোপ দাগলেন বিজেপি সাংসাদ তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। একই সঙ্গে তৃণমূলের যুব নেত্রী সায়নী ঘোষের নাম না করে কটাক্ষ করেন তিনি। 

উল্লেখ্য, আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনকে পাখির চোখ করে কোমর বেঁধে আসরে নেমেছে গেরুয়া শিবির। জেলায় জেলায় দলীয় সাংসদ থেকে বিধায়ক ও দলের চিত্রাভিনেতারা জনসম্পর্ক ও জনসভা শুরু করেছে। কোথাও চা পে চর্চা, কোথায় খেলার মাধ্যমে। তার সঙ্গে জেলাভিত্তিক ইনডোর কর্মী বৈঠক করছেন গেরুয়া বিগ্রেড। সম্প্রতি বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ মিঠুন চক্রবর্তী জেলা সফর শুরু করেছেন। গত কয়েকদিন ধরে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া জেলায় সভা করেছেন। শনিবার পান্ডবেশ্বর বিধানসভার ঝাঁঝরা কোলিয়ারী মাঠে ছিল তার জনসভা। এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপি সাংসাদ তথা বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।

এদিন সুকান্ত মজুমদার তাঁর বক্তব্যে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকে কড়া আক্রমন করেন। এদিন শুরুতেই সুকান্ত মজুমদার তৃণমূলের যুবনেত্রী সায়নী ঘোষের নাম না করে তির্যকভাষায় আক্রমন করে বলেন, “আগামীকাল হয়তো এই মাঠে তৃণমূলের সভা। তাদের অভিনেত্রী যুবনেত্রী আসবে। যে শিবলিঙ্গে কি যেন পরিয়েছিলেন। যারা হিন্দু ধর্মে, সংস্কৃতিতে সনাতন ধর্মে বিশ্বাস করেন প্রশ্নটা তাকে জিজ্ঞাসা করবেন। যেখানে লাগানোর, সেখানে লাগান কাজে দেবে। ভগবান শিবকে এভাবে অপমান করবেন না। হিন্দু ধর্ম বলে বেঁচে আছেন। অন্য কোনো ধর্ম হলে, গলা নিয়ে নিত।” তিনি আরও বলেন,” আমরা বললে সাম্প্রদায়িক বলবে। হিন্দু ধর্মের কথা বললে যদি সাম্প্রদায়িকতার কথা হয়। এক’শবার বলব।” এদিন তিনি আরও বলেন, “আগামী দিনে বিজেপি সরকার গঠন করবে। আর যত কয়লা চোর, বালি চোর সব জেলের ভেতরে যাবে। একটাও বাইরে থাকবে না। সেই ব্যবস্থা করবে বিজেপি।” তিনি আরও বলেন,” আজ যারা রাস্তার পাশে তৃণমূলের পতাকা লাগাচ্ছেন। তোর জন্য ৫০০ টাকা। তাতে কি সংসার চলে। তোর বউয়ের জন্য ৫০০ টাকা। ওদিকে পার্থ’দার বউয়ের জন্য কোটি কোটি টাকা ঢুকিয়েছে। তাও আবার হাফ বউ। কুকুরের জন্য ফ্ল্যাট, সবই আপনাদের টাকা মেরে। আপনার নেতার বান্ধবীর জন্য কোটি কোটি। আর আপনার বাড়ির বউয়ের জন্য ৫০০ টাকায় ছুটি। ২-১০ টাকার কয়লা বিক্রির জন্য কতদিন শোষিত হবেন। এভাবে চলতে দেবেন না। পশ্চিমবঙ্গ শেষ হয়ে যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গকে বিক্রি করার জন্য চক্রান্ত করছে।” 

“তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করে বলেন,”বিজেপি ক্ষমতা আসবে। আর বিজেপি আসলে আপনাদের ২ হাজার টাকা করে প্রতিমাসে দেবে।” তৃণমূলকে নিশানা করে বলেন,”এই বিধানসভা এলাকায় গত বিধানসভার ২ মের পর অনেক অত্যাচার করেছে। এখানের বিধায়ক বলেছে, বিজেপির যে পতাকা লাগাবে, তার হাত কেটে দেবে।” সুকান্ত মজুমদার হুঁশিয়ারির সুরে বলেন,
“এত ভয় জনগণকে। এত ভয় বিজেপিকে। ডিসেম্বর মাস’টা আসতে দিন। কে কার হাত কাটে, আমরা দেখব। অনেকে বলেছিল, তাদের অবস্থা এখন জেলের ভেতর হতে যাচ্ছে। আপনাদের অবস্থা কোথায় হচ্ছে ভেবে দেখুন।” 

শেষে বক্তৃতা দিতে ওঠেন মিঠুন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “আজ আমি কিছু বলবো না। সবার কথা শুনবো বলে এখানে এসেছি।” এরপরেই তিনি মাইক তুলে দিতে বলেন দলের কর্মীদের হাতে। মাইক হাতে নিয়ে একের পর এক কর্মী মিঠুন চক্রবর্তী, সুকান্ত মজুমদারদের সামনে ক্ষোভের কথা উগরে দেন।

অভিযোগ করে একাধিক কর্মী বলেন, বিধানসভা ভোটের পর কর্মীরা আক্রান্ত হলেও সে সময় কোনো নেতা পাশে এসে দাঁড়ায়নি। সাহায্য চেয়েও পাইনি। সবার অভিযোগ শোনার পর মিঠুন চক্রবর্তী বলেন, “দলের ওপর ভরসা রাখুন, আপনাদের সবার অভিযোগের সমাধান করব।” পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, “তৃণমূল রাজ্যজুড়ে সন্ত্রাস করছে, আসলে ওদের দেওয়ার কিছু নেই। তাই সন্ত্রাস করে মানুষের মুখ বন্ধ করে রাখতে চাইছে। তবে বেশিদিন এসব চলবে না। রাজ্যে বিজেপির সরকার হবে।”  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *