হস্ত ও লোকশিল্পের উন্নয়নে বাঁকুড়ায় ডোকরা মেলা

সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়া, ৮ এপ্রিল: ডোকরা শিল্পের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে বাঁকুড়ায় শুরু হলো তিন দিনের ডোকরা মেলা। বাঁকুড়া শহরের উপকন্ঠে বিকনা গ্ৰামে তৈরী হয়েছে ডোকরা শিল্পকেন্দ্র।এখানেই শুরু হয়েছে ডোকরা মেলা। গতকাল সন্ধ্যায় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মেলার সূচনা হয়। হস্ত ও লোকশিল্পের উন্নয়নে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ক্ষুদ্র ছোট ও মাঝারি শিল্প উদ্যোগ, বস্ত্র দপ্তর ও ইউনেস্কোর তত্বাবধানে রুরাল ক্রাফট এন্ড কালচারাল হাব প্রকল্পের অঙ্গ হিসেবে জেলা প্রশাসনের সহায়তায় এই মেলার আয়োজন।

মানব সভ্যতার আদি পর্বে লৌহ ব্যতীত ধাতুর ঢালাই ডোকরা হিসাবে পরিচিত।লস্ট ওয়াক্স প্রদ্ধতিতে ডোকরার ঢালাইয়ের কাজ করা হয়। ধাতু ঢালাইয়ের কঠিন প্রক্রিয়ায় তৈরি করা হয় লৌকিক আঙ্গিকে তৈরি হয় অদ্ভুত শিল্পকর্ম। গ্ৰামীন জীবনের সরল জীবনযাপন, আদিম সারল্য ফুটে ওঠে ডোকরার নকশায়।
পশ্চিমবঙ্গের দুটি স্হানে রয়েছে ডোকরা। পূর্ব বর্ধমানের দরিয়াপুর ও অপরটি বাঁকুড়ায় বিকনা গ্ৰামে। বিকনা গ্ৰামে রয়েছে প্রায় দুশোর অধিক ডোকরা পরিবার।বিকনা গ্ৰামে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদি ও গ্ৰামীন শিল্প পর্ষদের উদ্যোগে তৈরী হয়েছে ফোক আর্ট সেন্টার এবং কমিউনিটি মিউজিয়াম। সারা বছরই পর্যটকদের আনাগোন এই গ্ৰামে। ডোকরার শিল্পকর্ম ক্রয় যেমন করেন পর্যটকরা তেমনি ছাত্র ও ডিজাইনাররা এখানে আসেন শিল্পকর্ম রপ্ত করতে। ডোকরা শিল্পের কদর সারা ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এখানকার শিল্পী হরেন্দ্র নাথ রানা, গোপন কর্মকার, গীতা কর্মকারের মতো শিল্পীদের তৈরী ডোকরা শিল্পকর্ম পাড়ি দিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে ডোকরা জিআই স্বীকৃতি লাভ করেছে। গত কাল বিকেলের পর শুরু ডোকরা মেলা চলবে তিনদিন ধরে। সকাল১১টা থেকে সন্ধে ৭টা পর্যন্ত চলবে মেলায় কেনাকাটা।এছাড়াও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রায়বেশে নাচ, রনপা নৃত্য, আদিবাসী নৃত্য ইত্যাদির আয়োজন করা হয়েছে ডোকরা মেলায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *