BJP, Bangaon, বনগাঁয় বিজেপিকে হারাতে তৃণমূলের দরকার নেই? বিজেপির অন্দরে বাড়ছে চাপানউতোর

সুশান্ত ঘোষ, আমাদের ভারত, উত্তর ২৪ পরগণা, ২৩ ফেব্রুয়ারি: আসন্ন নির্বাচনের আগে বনগাঁর রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে এক বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে। বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, বনগাঁর বিজেপি বিধায়ককে হারাতে আলাদা করে তৃণমূল নেতাদের প্রয়োজন হবে না— বিজেপিকে হারানোর জন্য বিজেপির অন্দরেই যথেষ্ট ‘নেতা’ রয়েছেন। ২০২১ সালে বনগাঁর উত্তরে তৃণমূলের আঁতুড় ঘরের হেভিওয়েট নেতাকে পরাজিত করে খবরের শিরোনামে উঠে আসে অশোক কির্তনীয়া। তারপর থেকেই দলের কয়েকজন কর্মীদের নিয়ে তিনি গোটা বিধানসভা পায়ে হেঁটে মানুষের কাছে পৌছে গিয়েছে। তৃণমূলের সন্ত্রাসকে দমিয়ে মানুষের কাছে পৌছে উন্নয়নের কাজ করে চলেছে। এরপর থেকে দলের মধ্যে বিভাজন শুরু।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মন্তব্য ইঙ্গিত করছে গেরুয়া শিবিরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের দিকে। দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় স্তরে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, সংগঠনের সমন্বয়ের অভাব এবং প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে অসন্তোষের কথা শোনা যাচ্ছে। যদিও দলের উচ্চ পদে বসে থাকা নেতাদের এই বিভাজন অশোক কির্তনীয়ার কোনো যায় আসে না বলে মনে করেন। এর জেরে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বদলে নিজেদের মধ্যেই শক্তিক্ষয় হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই। বনগাঁ বিধানসভা কেন্দ্রটি বর্তমানে ভারতীয় জনতা পার্টি-র দখলে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় কর্মসূচিতে উপস্থিতি কমে যাওয়া, কর্মীদের একাংশের ক্ষোভ প্রকাশ এবং সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ্য মতবিরোধ রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বিধায়ক অশোকবাবু বলেন, গত পাঁচ বছরে গ্রামের রাস্তা, বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা চাষিদের সহযোগিতা সহ বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজ করেছি। দলমত নির্বিশেষ সমান অধিকার দিয়েছি। আমদের দলে থেকে বড় জায়গা নিয়ে তৃণমূলের দালালি করছে কিছু নেতা সেটা পরিষ্কার বনগাঁর মানুষের কাছে। তিনি বলেন, আমি ভূপেন শেঠের অনুপ্রেরণায় রাজনীতি করি। আমি যে দিন বিদায় নেবো বনগাঁর মানুষের মনের পাতায় আমার নাম লেখা থাকবে, আমি সেই রাজনীতি করি। দু’দিনের রাজনীতি যারা করতে এসেছে তারা বিরোধিতা করবে এটাই স্বাভাবিক। দলের নজর আছে, দল দেখবে।

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব এ বিষয়ে সরাসরি প্রতিক্রিয়া না দিলেও ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, শাসক দল পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। তাদের বক্তব্য, “মানুষই শেষ কথা বলবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি বিজেপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিরসন না হয়, তবে আগামী নির্বাচনে তার প্রভাব পড়তেই পারে। এখন দেখার, বনগাঁর মাটিতে লড়াইটা কতটা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে, আর কতটা নিজের দলের ভেতরের সমস্যার বিরুদ্ধে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *