আমাদের ভারত, ২০ অক্টোবর: দিন দিন শারীরিক পরিশ্রম কমে যাচ্ছে৷ ‘হাড়কে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করুন’৷ বৃহস্পতিবার বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবসে এই ভাষাতেই সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দীপালোক বন্দ্যোপাধ্যায়।
দীপালোকবাবু জানান, “এক সময় রোগটি বয়স্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও যত দিন বাড়ছে অল্পবয়সী যুবক এমনকি শিশুদের মধ্যেও এই জটিল হাড়ের রোগ বেড়ে চলেছে৷ এতে শুধু একজন দুর্বল হয়ে কর্মক্ষমতা হারায় না৷ সহজে হাড় ভেঙ্গে যায়। হাড় ছাড়াও নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ায়৷ হাড় দিয়ে তৈরী আমাদের দেহের কাঠামো। কিন্তু আমাদের উদাসীনতা, অজ্ঞতা বদ অভ্যাস ও অবহেলার জন্য দিন দিন বিশ্ব জুড়ে বাড়ছে হাড়ের মারাত্মক বিভিন্ন রোগ৷
আমাদের চিকিৎসা বিজ্ঞানে অধিকাংশ শব্দ ল্যাটিন ও গ্রিক ভাষা থেকে নেওয়া৷ অস্টিওপোরোসিস শব্দটি গ্রিক৷ এর বাংলা ‘ছিদ্র যুক্ত হাড়’ বা ঝাঁঝড়া হাড়৷ এই রোগে অতি সহজে ছোট্ট আঘাতেও হাড় ভেঙ্গে যেতে পারে৷ বেশী ভাঙ্গে মেরুদন্ডের মাঝের কশেরুকা, হাতের ও কোমরের হাড়৷ কেন হয় এই সমস্যা? দীপালোকবাবুর কথায়, “বয়সের সাথে সাথে হাড়ের নমনীয়তা কমে যায়৷ ২০ থেকে ৩৫ বছরে আমাদের হাড়ের গঠন সম্পূর্ণ হয়। চল্লিশ বছরের পর থেকে হাড় তার ক্যালসিয়াম ও ফসফেট হারাতে থাকে৷ দেহে কোষের হ্রাস ঘটে৷
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন তাই জরুরী৷ আমাদের মত দক্ষিণএশিয় দেশগুলিতে প্রতি চার জন পুরুষের এবং তিন জন মহিলার এক জন এই রোগের শিকার৷ পঞ্চাশ পর্যন্ত ১৫% এবং আশি ঊর্ধ্ব বয়সে ৭০% মানুষ সারা পৃথিবীতে এ রোগের শিকার৷ প্রাপ্তবয়স্কের হাড়ের ঘনত্ব ২.৫ মানের কম হলে এই রোগ ভাবা হয়৷ কিছু ক্ষেত্রে জিনগত কারণ থাকলেও অলস জীবন যাপন, স্থূলতা, ডায়াবেটিস, মদ্যপান ও ধূমপানের অভ্যাস এই রোগ বাড়াচ্ছে৷“
দীপালোকবাবু জানান, “হাড় যাতে দূর্বল ও ভঙ্গুর না হয় সেজন্য সবাইকে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সচেতন করতে বেশী লবণ যুক্ত খাদ্য, ক্যাফেইন, অধিক মাংস, কোল্ড ডিঙ্কস গ্রহণ ক্ষতিকর৷ আর্থ্রারাইটিস, সিলিয়াক ডিজিজ, হাইপারথাইরয়েডিজম, হাইপারপ্যারাথাইরয়েজম, হাইপার করটিসনিসম, গ্যাসট্রোইন্টেস্টাইনাল রোগ, অপুষ্টি কিংবা জাঙ্ক ফুড খাওয়া, মেনোপজ কিংবা শল্যচিকিৎসায় ডিম্বাশয় অপসারণ, অত্যাধিক স্টেরয়েড গ্রহণ, ক্যানসার ও খিঁচুনির ও কিছু মিশ্র ওষুধ থেকে এই রোগ হতে পারে৷ তাই পর্যাপ্ত মাত্রায় প্রোটিন, ক্যালশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম এবং ভিটামিন -ডি এবং সি গ্রহণ করতে হবে৷ সূর্য্যের আলো লাগাতে হবে৷
ডিমের কুসুম, তৈলাক্ত মাছ, যকৃৎ, চিজ খাওয়া ভাল৷ হাড়ের ক্ষয় রোধে পেপটাইড হরমোনের কাজ বৃদ্ধিতে ক্যালসিয়াম, ডি থ্রি, ক্যালসিটোনিন সহ নানা পদ্ধতির বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহৃত হয়৷ হোমিওপ্যাথিতে লক্ষণ অনুযায়ী অরাম ট্রাইফাইলাম, ক্যালমিয়া, ন্যাজা, এসিড ফ্লুয়োরিক, কোবাল্টাম, রাস টক্স, সাইলিসিয়া দেওয়া হয়। শরীরের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের এক্সরে বোন মিনারেল ডেনসিটি পরীক্ষা দরকার।”
প্রতি বছর ২০ অক্টোবর পালিত হয় ‘বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস’৷ পৃথিবীর নব্বইটি দেশে উদযাপিত হচ্ছে এই দিন৷ ১৯৯৬ সালে প্রথম এই দিনটি উদযাপিত হয়৷ ১৯৯৭ সালে তৈরী হয় আইওএফ বা আন্তর্জাতিক অস্টিওপোরোসিস ফাউন্ডেশন গঠিত হয়৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে এক যোগে এই দিন পালিত হয়৷ অন্যান্য দিবসের মত এই দিনেও বছর বছর আলাদা থিম থাকে৷ এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় ‘হাড়কে শক্তিশালী করার জন্য কাজ করুন’৷

