স্নেহাশীষ মুখার্জি, আমাদের ভারত, নদিয়া, ১১ সেপ্টেম্বর: কৃষ্ণগঞ্জ ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের অপসারণের দাবিতে আন্দোলনে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। এই
বিএমওএইচের ব্যবহার নিয়ে তাদের অভিযোগ। এবং তিনি স্বাস্থ্য দপ্তরের কোনও নির্দেশিকাই মানছেন না এই দাবিতে তারা আজ স্মারকলিপি দেন নদিয়া জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে।
কৃষ্ণগঞ্জের বিএমওএইচ ডাক্তার সাথী কুন্ডুর অপসারণ চেয়ে নদিয়া জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে স্মারকলিপি দিল কৃষ্ণগঞ্জের ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন ডাক্তাররা। প্রথম অভিযোগ উঠেছে তাঁর ব্যবহার নিয়ে। অভিযোগ তিনি ব্যবহার ঠিকমতো করেন না, কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং গালিগালাজ করেন। পাশাপাশি ডিউটি নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে।

ডাক্তার ও স্বাস্থ্য কর্মীদের অভিযোগ, স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশিকা অনুযায়ী যেখানে ৫০% উপস্থিতি থাকার কথা বলা হয়েছে সেটা তিনি মানেননি। তিনি নিজের হোয়াটসঅ্যাপে সার্কুলার জারি করে ১০০% উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করেন। তাই নিয়ে অধিকাংশ ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মীর তাঁর ওপর ক্ষোভ রয়েছে। পাশাপাশি ডাক্তারদের অভিযোগ, গতকাল সর্বোপরি সংক্রমণের কথা জানার পরও বিএমওএইচ রাত এগারোটা পর্যন্ত তাঁদের ফোন ধরেননি। অভিযোগ সেই কারণে বাধ্য হয়ে ওই ডাক্তারকে ইমার্জেন্সি ডিউটি চালিয়ে যেতে হয়। এছাড়াও বিএমওএইচ সরকারি গাড়ির অপব্যবহার করছেন বলেও অভিযোগ এক শ্রেণির ডাক্তার এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের।

পশ্চিমবঙ্গ ফেডারেশন রাজ্য সরকারি কর্মচারির স্বাস্থ্য শাখার অন্যতম নেতৃত্ব বিজয় বিশ্বাস এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন। ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের এই বিদ্বেষমূলক ও অভব্য আচরণের তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি জানান এই ঘটনা স্বাস্থ্য ভবন এবং আমার ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আশা করি নদিয়া জেলা প্রশাসন কর্মচারীদের পাশে থাকবে। আমি নদীয়া জেলার নেতৃত্ব হিসাবে কর্মচারীদের পাশে রয়েছি এবং কর্মচারীদের যে দাবি সে সম্বন্ধে আমি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছি।
নদীয়া জেলার সদর অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাক্তার কোলে জানান, ঘটনার সত্যাসত্য যাচাইয়ের জন্য আমি ওখানে গিয়েছিলাম। ওরা একটা আবেদন করেছে। আমি মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে ব্যাপারটা জানিয়েছি। ওটা তদন্ত করার পর এই ব্যাপারটা সামনে আসবে। কোভিড ১৯ এ বর্তমানে কাজের চাপ প্রচুর। একজন বিএমওএইচ হিসেবে হয়তো কোনও জায়গায় তাঁর সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার ত্রুটি রয়েগেছে। এটা তদন্ত হওয়ার পরেই জানা যাবে। আর বিএমওএইচ সরকারি গাড়ির অপব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি জানান,
বিএমওএইচ হিসেবে তিনি জেলার যে কোনও জায়গায় যেতেই পারেন। আর আমি নিজে তদন্ত করে দেখেছি উনি যখন সরকারি গাড়ি বাড়িতে নিয়ে যান উনি ভাড়া দিয়েই নিয়ে যান।


