প্রতীতি ঘোষ, আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ১১ আগস্ট:
কোভিড হাসপাতালের অজুহাত দিয়ে, আশঙ্কাজনক রোগী ভর্তি না নেওয়ার অভিযোগ উঠলো খড়দহ বলরাম স্টেট জেনারেল হাসপাতল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। আর এই ঘটনার জন্য হাসপাতালগেটের সামনেই মৃত্যু হয় আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি হতে আসা রোগীর।
জানাগেছে, আসানসোলের বাসিন্দা বছর ষাটের কৃষ্ণা যাদব। তিনি লরি করে খড়দহ এসেছিলেন সিমেন্টের বস্তা খালি করার কাজের জন্য, সঙ্গে তাঁর ছেলেও ছিলেন। মঙ্গলবার কাজ সেরে ক্লান্ত হয়ে পড়েন কৃষ্ণ যাদব। তিনি তখন লরির পাশে শুয়ে পড়েন। হঠাৎই একটি গাড়ি এসে তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। সেই সময় ব্যথায় আর্তনাদ করে ওঠেন কৃষ্ণ। তার আর্তনাদের শব্দ শুনে তার সহর্মীরা ও আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে খড়দহ বলরাম স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু বিপত্তি ঘটে সেখানে।
গুরুতর আহত কৃষ্ণবাবুকে হাসপাতালে ঢুকতে দিতে বাধা দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এমন কি কোভিড হাসপাতালের অজুহাত দেখিয়ে চিকিৎসকরা গেটের তালা ঝুলিয়ে দেয় বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ। হাসপাতালের গেটের সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় দেড় ঘন্টা পড়ে থাকেন আহত ব্যক্তি। বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয় কৃষ্ণা যাদবের।
এই ঘটনার পরে হাসপাতালের চিকিৎসকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এলাকার মানুষজন। তারা ক্ষিপ্ত হয়ে হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। খবর পেয়ে
ঘটনাস্থলে আসে খড়দহ থানার বিশাল পুলিশবাহিনী। মৃত কৃষ্ণা যাদবের ছেলে বলেন, “আমার বাবা একটা লরির পাশে শুয়েছিলেন তখন একটি লরির ড্রাইভার আমার বাবা ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেয়। সেই গাড়ির ড্রাইভার মদ্যপ অবস্থায় ছিলো। আমি ও স্থানীয় কিছু মানুষ আমার বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। কিন্তু তারা আমার বাবা কে হাসপাতালের ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। করোনা হাসপাতাল বলে হাসপাতালের গেটে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। তারপর থেকে আমি আমার বাবা কে হাসপাতালের বাইরে নিয়ে বসে আছি। কিন্তু অনেক বলেও কোনও ডাক্তার আমার বাবাকে দেখতে আসেনি। আমার বাবা কে যখন আনি উনি বেঁচে ছিলেন। কিন্তু এরপর বিনা চিকিৎসায় আমার বাবা মারা যায়।”

গতকাল রাতের এই অমানবিক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে স্থানীয়রা বলেন, “আমরা এই ঘটনার ধিক্কার জানাচ্ছি। ডাক্তারের কাজ রোগীকে দেখা। কিন্তু ওনাকে বারবার ডাকা স্বত্বেও উনি আসেননি। সরকার টাকা দিয়ে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের রেখেছে আর তারা রোগীদের পরিষেবা দিচ্ছেন না। এমন কি খড়দা থানার অফিসার এসে অনেকবার হাসপাতালের চিকিৎসকদের ডেকেছেন কিন্তু কোন লাভ হয়নি। ওরা তালা মেরে রেখেছে। এর থেকে লজ্জার আর কিছু হয় না যে ডাক্তার ফেলে ফেলে রোগীকে মেরে দিলো।”

