রাজেন রায়, কলকাতা, ২৫ ফেব্রুয়ারি: একটি মামলার ভিত্তিতে কলকাতা হাইকোর্ট গোটা প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতার অভিযোগে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে স্থগিতাদেশ দেয়। সেই ঘোষণা এবং তার সূত্র ধরে জেলায় জেলায় স্কুল ইন্সপেক্টরদের নতুন নির্দেশিকা পাঠানো হল ডিস্ট্রিক্ট প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিলের পক্ষ থেকে। তাতে জানানো হয়েছে, ২০১৪ টেটের নিয়োগের ক্ষেত্রে বেতনের বিল পাঠানো স্থগিত রাখতে হবে। ফলে আরও বিপাকে উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা।
সপ্তাহ খানেক আগে প্রকাশিত চাকরির তালিকায় ১৫২৮৪ জনের নাম উঠেছিল। তাদের মধ্যে অনেকে কাউন্সেলিংয়ের জন্য ডাক পাওয়ার অপেক্ষায়। আবার অনেকেই অ্যাপয়ন্টমেন্ট লেটার হাতে পেয়ে স্কুলে যোগ দিয়েও ফেলেছিলেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর চাকরি পেয়ে স্বস্তির শ্বাস নিয়েছিলেন হাজার হাজার প্রার্থী। বুধবার পর্যন্ত অনেকে যোগ দিয়েছিলেন বিভিন্ন স্কুলে। কিন্তু স্কুলগুলির কাছে যোগদান ও বেতন সংক্রান্ত স্থগিতাদেশের পরও কোনও সরকারি নির্দেশ ছিল না। বৃহস্পতিবার এই নির্দেশিকা চলে আসার পর বিষয়টি স্পষ্ট হল সকলের কাছে। এমনই জানিয়েছেন কয়েকটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক।
গত বছরের শেষ দিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাড়ে ১৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগের কথা ঘোষণা করেছিলেন। সঙ্গে জানিয়েছিলেন, ধাপে ধাপে ২০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ করবে রাজ্য। এরপর প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের গত বছর শেষের দিকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে প্রাইমারি এডুকেশন বোর্ড। শুরু হয় প্রার্থীদের তথ্য জমা দেওয়ার কাজ। ২০২১ এর জানুয়ারি মাসের ১০ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত ইন্টারভিউ হয়। ১৬ ফেব্রুয়ারি ফল প্রকাশ করে বোর্ড। শুরু হয় কাউন্সেলিং ও নিয়োগপত্র দেওয়ার কাজ। তবে গোটা প্রক্রিয়া ঘিরে প্রশ্ন ওঠা শুরু হয়। যোগ্য প্রার্থীদের মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়নি, ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্যে অস্বচ্ছতা রয়েছে বলে আদালতের দ্বারস্থ হন চাকরি প্রার্থীদের বড় অংশ। শুধু তাইই নয়, একাধিক মামলা দায়ের হয় হাইকোর্টে। ফলে জারি হয়েছে স্থগিতাদেশ।

