প্রধানমন্ত্রীকে ‘অশ্রদ্ধা’, শাহিদুলকে একহাত সমাজসেবী চিকিৎসকের

অশোক সেনগুপ্ত, আমাদের ভারত, ১ মে: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মন কি বাত’ বাত’-এর শততম অনুষ্ঠান উপলক্ষে রবিবার রাজভবনে রাজ্যপালের দেওয়া উত্তরীয় পরতে বা স্মারক গ্রহণে তাঁর অপারগতার কথা জানিয়ে দেন শাহিদুল লস্কর। এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। অভিযোগ উঠেছে প্রধানমন্ত্রীকে ‘অশ্রদ্ধা’-র। কড়া প্রতিবাদ জানালেন বিশিষ্ট সমাজসেবী তথা ২০২০-র ‘পদ্মশ্রী’ স্বীকৃতিপ্রাপ্ত চিকিৎসক অরুণোদয় মণ্ডল। বহুকাল ধরে এই চিকিৎসক সেবার মানসিকতা নিয়ে নিষ্ঠা-সহকারে শ্রমদান করেছেন শাহিদুলের সেবাকেন্দ্রে।

রাজভবনে রাজ্যপাল ওই অনুষ্ঠানে বলেন, “ইন্দ্রধনুর মতোই প্রধানমন্ত্রীর এই অনুষ্ঠান হল মনের সঙ্গে মন জোড়ার “নরেন্দ্র-ধনু’!” অনুষ্ঠানেও দেখা যায়, দেশের নানা প্রান্তের কৃতীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কথা বলছেন। এর পরে মঞ্চে শাহিদুলকে ডাকা হতেই সুর যায় কেটে। রাজ্যপালকে নমস্কার করে এসে সবিনয়ে উত্তরীয় পরতে বা স্মারক গ্রহণে তাঁর অপারগতার কথা জানিয়ে দেন শাহিদুল। তিনি ঠিক কী বলছেন, তা অবশ্য মাইক না-থাকায় শোনা যায়নি। রাজ্যপাল খানিক অপ্রস্তুত হয়ে থমকে যান। এর পরে ফের অন্যদের স্মারক বিলি চলে।

পরে শাহিদুল প্রচার মাধ্যমে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তো তাঁর মনের কথা বলছেন। কিন্তু আমিও তো আমার মনের কথা বলতে চেয়েছিলাম। সে আর শুনলেন কই! পরপর দু’বার কত আশা নিয়ে দিল্লি গেলাম। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে চোখের দেখা টুকুই দেখতে পেলাম না!”

সোমবার অরুণোদয়বাবু এই প্রতিবেদককে জানান, “আমি যারপরনাই বিস্মিত হয়েছি। বারুইপুরের পুঁড়ি গ্রামে ট্যাক্সি চালক সৈয়দুল লস্করের সংগ্রামের কথা কিন্তু পুরোপুরি সত্য নয়। একমাত্র বোনের অকাল মৃত্যুকে মূলধন করে সাধারণ ট্যাক্সি যাত্রী তথা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলাটা তাঁর ব্যবসা মাত্র। এভাবেই তিনতলা বিশাল বসত বাড়ি তৈরি করেছে সৈদুল। সমাজ সেবা বা জনসেবা প্রচার সর্বস্ব মিথ্যা।”

এই প্রতিবেদকের কাছে অরুণোদয়বাবুর অনুযোগ, “আমি নিজে দীর্ঘদিন ঝড়, জল, বৃষ্টি ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে উপেক্ষা করে এই মারুফা মেমোরিয়াল হাসপাতাল চালিয়েছি সম্পূর্ণ নিজ খরচে। অথচ রোগীদের কাছ থেকে নেওয়া নাম মাত্র টাকার পুরোটাই সে ব্যক্তিগত কাজে খরচ করেছে। খবরের কাগজের বা টেলিভিশনের প্রতিবেদন ও বাস্তবতার মধ্যে বিস্তর ফারাক। তাই সত্যাসত্য যাচাই করেই খবর করা উচিত বলেই মনে করি।”

প্রসঙ্গত, রবিবার রাজভবনে অনেক অখ্যাত গুণিজনের দেখা মেলে। তাঁদের মধ্যে সাঁওতালিতে সংবিধানের তর্জমাকারী শ্রীপতি টুডু, রামায়ণের পট আঁকিয়ে শিল্পী পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার সেরামুদ্দিন চিত্রকর, কৃতী গরিব ছাত্র অভয় গুপ্তদের কথাও প্রধানমন্ত্রী তাঁর অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে বলেছেন। জলপাইগুড়ির সারিন্দাবাদক ১০২ বছরের মঙ্গলাকান্তি রায়-সহ পদ্মসম্মান প্রাপ্ত অনেকেও রবিবার এসেছিলেন। ছিলেন বিনোদন ও শিক্ষা জগতের কিছু মুখও। তাঁদের সামনেই সৈয়দুল উত্তরীয় প্রত্যাখ্যান করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *