সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাকুঁড়া, ১৮ নভেম্বর: পুরনো পেনসন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনে নেমেছে মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বাস্তুহারা পরিবারের ২৪০জন কর্মী।এবার দাবি আদায়ে পথে নামলো তাদের পরিবার গুলিও।
গত ১ নভেম্বর থেকে রোজ ডিভিসির মেজিয়া তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের চিফ ইঞ্জিনিয়ারের অফিসের সামনে ১ ঘন্টা করে কর্মী বিক্ষোভ কর্মসূচি তো চলছেই। এবার এখানের ভূমি ও বাস্তুহারা পরিবারের চাকরিরত ডিভিসির ২৪০ জন কর্মী তাদের পরিবার নিয়ে পথে নামলেন। তাদের দাবিকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে প্রতিবাদে সামিল হলেন ডিভিসির কর্মী ইউনিয়নগুলি। বুধবার সন্ধ্যায় তারা তাদের পরিবারের শিশু থেকে বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের নিয়ে এমটিপিএস কলোনিতে একটি বিক্ষোভ মিছিল করে পেনশনের দাবিকে আরও জোরালো করলেন। মিছিলের পর একটি প্রতিবাদ সভা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সিটু, আইএনটিইউসি, বিএমএস, ইউটিইউসি সহ ডান বাম সমস্ত কর্মী ইউনিয়নগুলির নেতারা।

বিক্ষোভকারীদের আহ্বায়ক দেবাশিস মুখোপাধ্যায় বলেন, মেজিয়া বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ১৯৮৬ সালে জমি অধিগ্রহণ করা হয়। তারপর ভূমি ও বাস্তুহারাদের চাকরির দাবিকে মান্যতা দিয়ে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন রাজ্য সরকার, ডিভিসি ও ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে একটি ত্রিপাক্ষিক চুক্তি হয়। সিদ্ধান্ত হয় যে, প্রকল্পের ৩ নম্বর ইউনিট চালু হওয়ার সাথে সাথে ৫২০ জন ভূমিহারাকে ডিভিসিতে স্থায়ী চাকরি দেওয়া হবে। ১৯৯৮ সালে ৩ নং ইউনিট চালু হলেও ২৮০ জনকে নিয়োগ করা হলেও বাকিদের নিয়োগ করা হয়নি। বাকি ২৪০ জনকে নিয়োগ করা হয় ২০০৪ থেকে ২০০৮ সালে।
বিক্ষোভকারী প্রশান্ত মন্ডল বলেন, ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার একটি সার্কুলার প্রকাশ করে জানায়, যেসব সরকারি কর্মী ২০০৪ এর জানুয়ারির পর নিযুক্ত হয়েছেন তারা পেনশন প্রকল্প থেকে বাদ যাবেন। তাদের জন্য নতুন পেনশন প্রকল্প চালু করা হয়। যাতে কর্মীরা অবসর নেওয়ার পর তাদের পাওনা টাকা থেকে কিছু কেটে রেখে সেই টাকা থেকে মাসে মাসে দেড় থেকে ২ হাজার টাকা পেনশন পাবেন। কিন্তু যারা পুরানো পেনশন স্কিমে থাকবেন তাদের অবসরের পর মূল মাইনে ও মহার্ঘ ভাতা যা হয় তার অর্ধেক পেনশন পাবেন। অর্থাৎ ডিভিসির কোনও চতুর্থ শ্রেণির কর্মী অবসর নিলে এই মুহূর্তে কমপক্ষে ২৫ হাজার টাকা পেনশন পাবেন।
সামনের বছর অবসর নিতে চলেছেন সদানন্দ মাজি। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার ওই সার্কুলারের পর আরেকটি নির্দেশিকা প্রকাশ করে জানিয়েছে, যদি কোনও ব্যক্তি ২০০৪ সালের আগে প্যানেলভুক্ত হয়ে পরে নিয়োগ হয়েছেন তিনি পুরানো পেনশনের আওতায় আসবেন। সদানন্দ মাজি বলেন, এমটিপিএসে ৫২০ জন ভূমিহারা কর্মীই ১৯৯৪ সাল থেকে প্যানেল ভুক্ত হয়ে আছেন। তাহলে আমাদের কেন পেনশন প্রকল্প থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। একই ভাবে জমি দিয়ে ২৮০ জন পেনশন পাবেন আর ২৪০ জন পাবেন না এটা কি করে হয়। তিনি বলেন, আমাদের সকলের চাকরি হওয়ার কথা ১৯৯৮ সালেই। কিন্তু তা না করে ডিভিসি কর্তৃপক্ষ আমাদের ১০ বছর পর চাকরি দিয়ে চাকরির মেয়াদ যেমন কমিয়েছে তেমনি পেনশন থেকেও বঞ্চিত করেছে। আমি মাত্র ১৩ বছর চাকরির সুযোগ পেলাম। এরপর পেনশন না পেলে অবসরের পর পরিবার নিয়ে খাব কি। তাই বাধ্য হয়ে পরিবারের লোকজন নিয়ে পথে নেমেছি।
বিক্ষোভ সভায় সিটু অনুমোদিত ডিভিসি শ্রমিক ইউনিয়নের সারা ভ্যালির সাধারণ সম্পাদক জীবন আইচ জানান, আইন রয়েছে কিন্তু ডিভিসি কর্তৃপক্ষ তার মান্যতা দিচ্ছে না। আজ যে ভাবে ডিভিসির একটা অংশ পরিবার নিয়ে পথে নামতে বাধ্য হয়েছে এটা কর্তৃপক্ষের লজ্জা।
ইনটাক পরিচালিত ডিভিসি কর্মচারী সংঘের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা অচিন্ত্য দাস বলেন, এই লড়াই কলকাতার সদর দপ্তর ডিভিসি টাওয়ারর্সে পৌঁছে দিতে আমরা সব রকম সাহায্য করব। দাবি আদায় না হলে বৃহত্তর আন্দোলন হবে।
একই ভাবে বিএমএস নেতা হারাধন মাজি, ডিভিসি স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি সঞ্জিত সাহা ও অন্যান্য নেতারাও বিক্ষোভকারীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
ইনটাক নেতা অরিন্দম ব্যানার্জি বলেন, আমরা ডিভিসির ৭ কর্মী ইউনিয়ন মিলে সংযুক্ত মোর্চা গঠন করেছি। আমাদের ৭ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন চলছে। তার মধ্যে অন্যতম হল সকলকে পুরানো পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

