পুরুলিয়ার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নতুন করে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় ক্ষুব্ধ কর্মচ্যুতরা

সাথী দাস, পুরুলিয়া, ১৩ সেপ্টেম্বর: চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ ১৫০ জনকে উদ্বৃত্ত দেখিয়ে নতুন কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হল পুরুলিয়ার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ দেখান কর্মহারারা।

কাজে পুনরায় নিয়োগের দাবিতে তাঁরা দু’মাস ধরে টানা আন্দোলন করছেন। তার মধ্যেই নতুন কর্মী নিয়োগ শুরু হল দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। আজ থেকেই সেখানে টেকনিশিয়ান, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রভৃতি পদের ইন্টারভিউ হয়। সেখানে মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ও অন্যান্য আধিকারিক ছাড়াও ছিলেন রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান শান্তিরাম মাহাতো। এই মেডিক্যাল কলেজে প্রথম থেকেই নিচু পদে বেসরকারিভাবে নিয়োগ হয়েছে। চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ ছিলই। ক্রমে তা স্পষ্ট হয়ে যায়।

এদিকে মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, এই নিয়োগ তাঁরা করছেন না। বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে নিয়োগ হচ্ছে। কাজেই সরাসরি তাঁরা কিছুই করতে পারবেন না। তবে কর্মহারাদের লিখিতভাবে দাবি দাওয়া জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের মার্চ মাসে করোনা পরিস্থিতির সময় পুরুলিয়া দেবেন মাহাত সদর হাসপাতালে ১৫০ জন যুবক যুবতীদের অস্থায়ী কর্মী হিসেবে নিয়োগ করা হয়। তাঁরা করোনা পরিস্থিতির সময় হাসপাতালের রোগী সহায়তা, সাফাই, জিডিএ, নিরাপত্তা রক্ষী সহ বিভিন্ন কাজ করে আসছিলেন। চলতি বছরের মার্চ মাসের পর চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তার পর পরিস্থিতি ও প্রয়োজনের কথা ভেবে নিজস্ব তহবিল থেকে এঁদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করে মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ।

১৬ আগস্ট জেলা স্বাস্থ্য দফতর একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ‍্যমে ১৫০ জন কর্মীকে কাজ থেকে বহিস্কার করে। তার প্রতিবাদে এবং পুনরায় কাজে বহাল রাখার দাবিতে কর্মচ্যুতরা হাসপাতাল চত্বরের সুপারের অফিসের সামনে ধর্ণায় বসেন। তার পর ঘোলা জলে মাছ ধরতে আন্দোলনকারীদের পাশে বসে ছবি তোলেন শাসক দলের অনেকেই। তার পর আজ এই নতুন কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় তুষের আগুনে ঘি ঢালার মতো পরিস্থিতি বলে মনে করছেন পুরুলিয়াবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *