পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৩ নভেম্বর: বোল্লায় মহিলাদের পোশাক পরিবর্তন কক্ষের উদ্বোধনে গিয়ে মেজাজ হারালেন সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। বৃহস্পতিবার সকালে এই ঘটনাকে ঘিরে তুমুল চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয় বোল্লা মন্দির চত্বর এলাকায়। সাংসদ তহবিলের বরাদ্দ অর্থে ওই বিশেষ কক্ষটি তৈরি হলেও সেখানে কেন সাংসদের নাম উল্লেখ নেই, সেই প্রশ্ন তুলেই এদিন সরব হয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, জেলাজুড়ে একাধিক প্রকল্পে বিগত সাংসদ অর্পিতা ঘোষের নাম উল্লেখ থাকলেও তার নাম লিখতেই অসুবিধা রয়েছে প্রশাসনের। উন্নয়ন নিয়ে এক ঘৃণ্য রাজনীতি চলছে বলেও দাবি করেছেন বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ।
জানাগেছে, বালুরঘাটের বহু প্রাচীন এই বোল্লা মন্দিরে প্রায় সারাবছরই দূর দূরান্ত থেকে ভক্তদের সমাগম ঘটে। স্নানের পর একপ্রকার বাধ্য হয়েই ভেজা কাপড়ে বোল্লা কালীকে পুজো দিতে হয় ভক্তদের। কেননা সেখানে ছিল না কোনো পোশাক পরিবর্তনের জন্য আলাদা কক্ষ। পুরুষ ভক্তদের সেভাবে কোনো অসুবিধা না হলেও মহিলাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটি ছিল তীব্র। যে বিষয়টি সাংসদের নজরে আনেন বোল্লা মন্দির কর্তৃপক্ষ। আর এরপরেই তড়িঘড়ি সাংসদ তহবিলের প্রায় তিন লক্ষ টাকা বরাদ্দে মন্দির সংলগ্ন এলাকায় নির্মিত হয় মহিলাদের পোশাক পরিবর্তন কক্ষ। বৃহস্পতিবার যারই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে যান সাংসদ। যেখানে গিয়েই মেজাজ হারান সুকান্ত মজুমদার। তাঁর অভিযোগ, পঞ্চায়েতের হাত দিয়ে কাজটি হলেও তার অর্থ বরাদ্দ হয়েছে সাংসদ তহবিল থেকে। সুতরাং সেখানে সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের আর্থিক তহবিলে কথাটি কেন উল্লেখ নেই সেই প্রশ্ন তুলেই সরব হয়েছেন তিনি। একই সাথে অপরিকল্পিত ভাবে যে ওই কক্ষটি তৈরি করা হয়েছে তা নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি।

বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, সাংসদ কোটার টাকা খরচ করে উন্নয়ন হচ্ছে অথচ সাংসদের নাম লিখতে অসুবিধা। এটা একটা ঘৃণ্য রাজনীতি চলছে রাজ্যের শাসক দলের তরফে।
বোল্লা মন্দির কমিটির তরফে ম্যানেজার সুব্রত মন্ডল বলেন, সাংসদ কোটার টাকাতেই মন্দিরে আসা মহিলা ভক্তদের পোশাক পরিবর্তনের কক্ষটি নির্মিত হয়েছে। যেখানে শুধু এমপি ল্যাড কথাটি লেখা রয়েছে। যা নিয়েই সাংসদের আপত্তি। তারা চান উন্নয়ন। আর এই উন্নয়নের কান্ডারিদের নাম থাকাটাও যথেষ্ট প্রয়োজন রয়েছে বলেই মনে করেন তিনি।

