বিদ্যাসাগরের প্রয়াণ দিবসে খিচুড়ি খাওয়ানো নিয়ে মতবিরোধ, গ্রামবাসী ও প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিদের মধ্যে বিতন্ডা

পার্থ খাঁড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ২৭ জুলাই:বিদ্যাসাগরের মৃত্যু দিবসের অনুষ্ঠানে দুপক্ষের বাকবিতণ্ডা। দফায় দফায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হল।

১৩ শ্রাবণ বিদ্যাসাগরের মৃত্যু দিবস পালনের সাথে কয়েক হাজার মানুষকে খিচুড়ি খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হবে কিনা সেই নিয়েই মতবিরোধ তৈরি হয় গ্রামবাসী এবং প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের মধ্যে। করোনাকালে বিগত দু’বছর বিদ্যাসাগরের মৃত্যু দিবস আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করতে পারেনি বীরসিংহ ডেভালপমেন্ট অথরিটি। এই বছর আনুষ্ঠানিকভাবেই বিদ্যাসাগরের মৃত্যুদিবস পালন করার পরিকল্পনা নিয়েছে অথরিটির কর্তারা। তাঁরা চান মৃত্যুদিবস পালন করা হোক বড় করেই, কিন্তু সেই দিন কয়েক হাজার মানুষকে উৎসবের মেজাজে খেঁচুড়ি খাওনোর ব্যবস্থা না করে তা জন্মদিনে বা অন্য কোনও দিন হোক। এই নিয়ে মহকুমাশাসক সুমন বিশ্বাস সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা কিছু যুক্তি তুলে ধরেন গ্রামবাসীদের কাছে। তাঁদের যুক্তি মৃত্যু দিবস আনন্দের নয় শোকের দিন তাই ওইদিন খিচুড়ি খাওনোর ব্যবস্থায় শোকের ছায়াকে ঢেকে আনন্দের দিকটাই বেশি করে ফুটে উঠবে।

অন্যদিকে গ্রামবাসীরা চান বিগত দিনের মতই মৃত্যু দিবসের অনুষ্ঠানের সাথে গণখিচুড়ি খাওনো হোক এই বছরও। তাদের দাবি ওটা খিচুড়ি খাওয়ানো নয় ওটা অন্যভোগ। তাই বিগত দিনের রীতি বজায় থাকুক এবছরও।

দুই পক্ষের দু’রকম মতামত নিয়ে গত কাল থেকেই দফায় দফায় চলে বাকবিতন্ডা। আজ ঘাটালের মহকুমা শাসক গ্রামবাসীদের নিয়ে এক প্রস্থ আলোচনায় বসেন ও সুচিন্তত ভাবে খিচুড়ি খাওয়ানোর বিষয়টা বিবেচনা করার অনুরোধ রাখেন। আর তা তুলে ধরতে গিয়েই আবেগবসত কেঁদে ফেলেন মহকুমাশাসক। গ্রামবাসীরা তাদের দাবিতেই অনড় থাকে। অবশেষে গ্রামবাসীদের দাবি মেনে আগামী ১৩ ই শ্রাবণ বিদ্যাসাগরের বীরসিংহ গ্রামে বিগত বছরের মতই বিদ্যাসাগরের মৃত্যুদিবস পালনের সাথে সকলকে খিচুড়ি খাওয়ানোর ব্যবস্থাও রাখা হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *