আমাদের ভারত, ব্যারাকপুর, ৮ মার্চ: ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্রে নাম ঘোষণার পর এখনো প্রচারে নামতে পারেননি পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। তৃণমূলের এই সেলিব্রিটি প্রার্থী এখন দলের নেতাদের ক্ষোভ মেটাতেই ব্যস্ত। তিনি শুধু একা নন জেলা এবং রাজ্যের নেতারাও দলের স্থানীয়দের ক্ষোভ মেটাতে মাঠে নেমে পড়েছেন। আর রাজ চক্রবর্তীর নিজে রাজনীতির এই ক্ষোভ বিক্ষোভ মেটাতে ব্যাট হাতে নেমে পড়লেন মাঠে।
ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্রে রাজ চক্রবর্তীর নাম ঘোষণা হতেই দলের ভেতরে চূড়ান্ত ক্ষোভ দেখা দেয়। এলাকার নেতা কর্মীরা স্থানীয় প্রার্থীর দাবি তোলেন। তাদের বক্তব্য, এর আগে শীলভদ্র দত্ত বহিরাগত প্রার্থী ছিলেন। এবারও রাজ চক্রবর্তী বহিরাগত। তাদের দাবি ছিল স্থানীয় প্রার্থীর। এ ব্যাপারে তাঁদের প্রথম পছন্দ ব্যারাকপুর পুরসভার প্রশাসক উত্তম দাসকে। এই নিয়ে দলের ভেতরে চরম ক্ষোভ জমতে থাকে। এই ক্ষোভ মেটাতে গতকাল বৈঠক করেন জেলা এবং রাজ্য নেতৃত্ব। ব্যারাকপুর নোনাচন্দন পুকুর ক্লাবে রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে উত্তম দাস, লালন পাসোয়ানকে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন ফিরহাদ হাকিম ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। বৈঠক শেষে ফিরহাদ ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন ক্ষোভ মিটে গেছে।

রাজ চক্রবর্তীও বলেন, “ব্যারাকপুরের কর্মীরা উজ্জীবিত। কোনও ক্ষোভ নেই কর্মীদের মধ্যে। আগে যা ছিল সেটা অতীত। তিনি মুখে একথা বললেও নিজেও জানেন ক্ষোভ কতটা মিটেছে! তাই স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সম্পর্ক সহজ করতে আরও একধাপ এগোলেন তিনি। ক্লাবের ব্যাট বল নিয়ে নেমে পড়লেন মাঠে। ডেকে নিলেন ব্যারাকপুরের পৌর প্রশাসক স্থানীয় তৃণমূল নেতা উত্তম দাসকে। মাঠে নেমে শুরু করলেন ক্রিকেট খেলা। প্রথমে উত্তম দাসকে ব্যাট করতে দিলেন। বল হাতে উত্তম দাসকে সামলালে তারপর নিজে ব্যাট হাতে নিলেন সেলিব্রিটি প্রার্থী রাজ চক্রবর্তী। খেলা শেষে দেদার সেলফি তুললেন দলীয় কর্মীদের সঙ্গে। দলীয় নেতা কর্মীদের আশ্বাস দিলেন, তাঁদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করে বিজেপিকে হারাবেন তিনি। তাঁর এই প্রচেষ্টায় স্থানী নেতা কর্মীদের ক্ষোভ কি মিটে গেল, তা অবশ্য জানা যায়নি।

