সাথী দাস, পুরুলিয়া, ৩১ মার্চ: তপশিলি উপজাতি সত্ত্বা নিয়ে মাহাতো ও কুড়মিদের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে পৌঁছোল আদিবাসীদের যৌথ সংগঠনগুলি। “মাহাতো ও কুড়মিদের কোনও ভাবেই তপশিলি উপজাতিভুক্ত করা যাবে না।” এই স্লোগান দিয়েই সরকারি সেই উদ্যোগ ও প্রক্রিয়া বন্ধ করতে সোচ্চার হল আদিবাসী সংগঠনগুলি। সেই কারণেই আজ আদিবাসীদের বিভিন্ন সংগঠনের জমায়েত হয় পুরুলিয়া শহর লাগোয়া শিমুলিয়া ফুটবল গ্রাউন্ডে।

ওই সভা মঞ্চে ভারত জাকাত মাঝি পরগনা মহলের পুরুলিয়ার সংগঠক রতন লাল হাঁসদা কুড়মি সম্প্রদায়ের দাবির সরাসরি বিরোধিতা করে বলেন, “যাদের সংস্কৃতি জীবন যাত্রা আদিবাসীদের সঙ্গে মেলে না তারা কী করে তপশিলি উপজাতি হতে পারে? এটার আমরা গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ ও বিরোধিতা করছি এবং করে যাবো।”
পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী কল্যাণ সমিতির চেয়ারপার্সন বালক রাম সরেন পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের সত্ত্বা নিয়ে যাঁরা আন্দোলন করছেন তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা করছে। বন্দি করে রাখছে।” এদিন সরাসরি মঞ্চে বক্তব্যে কুড়মি সমাজের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি। তিনি বলেন, “সিআর রিপোর্ট পরিবর্তন করা যায় না। কুড়মি সমাজ প্রশাসনকে চাপ দিয়ে পরিবর্তন করতে চাইছে।”

গোটা ব্যাপারটি নিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন আদিবাসী কুড়মি সমাজের মুখ্য উপদেষ্টা অজিত প্রসাদ মাহাতো। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের সংস্কৃতি, স্বাভিমান, ভাষা, সত্ত্বা ধরে রাখব। সংবিধান মেনেই আমাদের দাবির জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাবো। ওরা তাহলে কি বলতে চায় যে ভারতের সরকারি সমীক্ষা মিথ্যা ভিত্তিহীন?”
প্রসঙ্গত, কুড়মি জাতিকে তপশিলি উপজাতি তালিকাভুক্ত করা, সারনা ধর্মকে স্বীকৃতি, কুড়মি ভাষাকে অষ্টম তপশিলে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে আগামী ৫ এপ্রিল সকাল ৬ টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য রেল রোকো আন্দোলনের ডাক দিয়েছে আদিবাসী কুড়মি সমাজ। ওই দিন পুরুলিয়ার কুস্তাউর রেল স্টেশন এবং ঝাড়গ্রামের খেমাশুলি স্টেশনে আন্দোলনের কথা ঘোষণা করে তারা। তারই পাল্টা হিসেবে দেশব্যাপী আদিবাসীদের উপর অত্যাচার বন্ধ করার দাবি, আদিবাসীদের জোর করে তপশিলি উপজাতি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিরুদ্ধে, বনাধিকার আইন ২০০৬ ও পঞ্চম তফসিল লাগু করার দাবিতে, নকল তপশিলি উপজাতি শংসাপত্র বাতিল প্রভৃতি দাবি নিয়ে আদিবাসী একতা মঞ্চ আগামী ১০ এপ্রিল বাঁকুড়ার খাতড়ার ‘এ’টিম গ্রাউন্ডে বড় সমাবেশ আয়োজিত করছে।

এদিকে আজ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পুরুলিয়া শহরে পৌঁছোন সংগঠনের সদস্যরা। শিমুলিয়া বিক্ষোভ সভাস্থলে জমায়েত হওয়ার আগেই পুরুলিয়া শহরে মিছিল করে বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠনগুলি। মিছিলে অবরুদ্ধ হয়ে যায় পুরুলিয়া শহরের গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম রাস্তা। এদিন বিকেলের দিকে সংগঠনগুলির প্রতিনিধিরা জেলাশাসকের উদ্দেশ্যে তাঁদের দাবি নিয়ে স্মারকলিপি দেন।

