আমাদের ভারত, কলকাতা, ২৪ জুন: অনুব্রত হীন বীরভূমে এবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিরোধীরা বড় সাফল্য পেয়েছে বলে মনে করেন বিজেপির সর্ব ভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। পাশাপাশি তিনি বলেন, দক্ষিণ ২৪ পরগণায় বহু জায়গায় বিরোধীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেনি। তা সত্বেও যেখানে যেখানে দিতে পেরেছে সেখানে জোরদার লড়াই হবে।
নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট বলছে, বীরভূমে ৩০ শতাংশ এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২৭.২ শতাংশ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তৃণমূল জিতে গেছে। এই প্রসঙ্গে দিলীপবাবু বলেন, অসম্ভব কিছু না গতবার এই জেলাগুলোতে নমিনেশন প্রায় ছিলই না। একমাত্র বীরভূমের আহমেদপুর ব্লকে আমাদের প্রায় ১৫০ জন মনোনয়পত্র জমা দিতে পেরেছিল, তাদের মধ্যে ৮০ জনই জিতে ছিল। বাকি পুরো জেলার ১১ টা বিধানসভায় নমিনেশন করতে দেওয়া হয়নি। এবার যদি ওখানে ৬০ থেকে ৭০% হয়, তাহলেও অনেক বড় সাফল্য মনে করতে হবে বিরোধীদের।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই জেলার পুরোটাই উপদ্রুত এলাকা। ডায়মন্ড হারবার থেকে আরম্ভ করে ফলতায় তো কাউকেই মনোনয়নপত্র জমা করতে দেয়নি। মগরাহাট, ভাঙড়, ক্যানিং, জীবনতলায় সব থেকে বেশি হিংসা হয়েছে। নেতা তো নয়, এক একটা গুন্ডা, তাদের আবার সিকিউরিটি দেওয়া হয়ে গেছে। সুতরাং এই সব জায়গায় কাউকেই মনোনয়পত্র জমা করতে দেওয়া হয়নি। বাকি কিছু জায়গায় ভয় দেখিয়ে উইথড্র করে নেওয়া হয়েছে। বাকি জায়গায় বিরোধীরা নমিনেশন করেছে। যেকানে বিরোধীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পেরেছে সেখানে ভোটের লড়াই পুরোপুরি হবে।
দিলীপবাবু বলেন, বহু জায়গায় বিরোধীদের মনোনয়নপত্র জমা করতে দেওয়া হয়নি, অথচ যে লোকটা দেশেই নেই, হজ করতে গেছেন, তার নমিনেশন কি করে হলো? আদালত যেহেতু পুরো বিষয়টা দেখছেন এটা বিশেষভাবে তদন্ত করা উচিত। টিএমসির লোকেরা গোছা গোছা ব্যালট নিয়ে এসে একসাথে গোছা গোছা জমা দিয়ে দিয়েছে, আর না দেখে সব নমিনেশন হয়ে গেছে। না হলে একদিনে ৪০ হাজার নমিনেশন কী করে হয়? এই প্রশ্ন প্রথম থেকেই ছিল, এখন বোঝা যাচ্ছে নির্বাচন কমিশনার কত বড় অযোগ্য। কোনও কিছু না দেখে টিএমসির কথাতেই সব করেছে।
দিলীপবাবু বলেন, এছাড়া বিভিন্ন বুথে যে রিজার্ভেশন হয়েছে তার জন্য অনেক জায়গায় প্রার্থী দিতে সমস্যা হয়েছে। আমি আমার মেদিনীপুরে দেখেছি জেনারেল যারা আছেন তাদের জন্য কোনও সিট-ই বাঁচেনি। একটা বিধানসভাতে চার পাঁচটা অঞ্চল বা জেলা পরিষদে মাত্র একটা দুটো জেনারেল সিট আছে। হয় মহিলা রিজার্ভ, নইলে এসসি, এসটি, ওবিসি রিজার্ভ। ফলে আমাদের বেশিরভাগ পুরনো কর্মীই টিকিটই পায়নি অনেক জায়গায়। শেষ মুহূর্তে কোথাও জেনেছি আসনটি এসটি মহিলা হয়ে গেছে, ফলে সেখানে ক্যান্ডিডেট পাওয়া যায়নি, পাওয়া গেলেও তার সার্টিফিকেট হয়নি ঠিকমত, এরকমই বিভিন্ন কারণে সব পার্টির কিছু না কিছু সমস্যা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঠিকঠাক নিয়োগ করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। দিলীপবাবু বলেন, এত লড়াই করে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে এসেছি, তারপরে যদি ঠিকমতো নিয়োগ না হয় তাহলে কোনও লাভ নেই। আর যদি রাজ্য পুলিশের হাতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়, রাজ্য পুলিশ যেরকম অকম্মা তাদেরকেও সেরকম অকোম্মা করে বসিয়ে রাখবে। এর আগে অভিজ্ঞতা আছে ১৩ সালের। সেন্ট্রাল ফোর্স এর জন্য আলাদা অবজারভার রাখা উচিত এবং কোর্ট থেকে তার উপরে অবজারভেশন হওয়া উচিত।

