সোমনাথ বরাট, আমাদের ভারত, বাঁকুড়, ১৭ নভেম্বর: বিদ্যালয়ের জীর্ন দশা, খসে পড়ছে পলেস্তারা, তাই আতঙ্কে গাছতলায় চলছে ক্লাস। অথচ হেলদোল নেই শিক্ষা দপ্তরের। এর ফলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে গঙ্গাজলঘাটি থানার শালিয়াড়া গ্ৰামে।
বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটি ব্লকের শালিয়াড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে থাকলেও শিক্ষা দপ্তর উদাসীন। যে কোনো সময় গোটা ভবনটি ভেঙ্গে পড়তে পারে। এর ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনা বলে মনে করছেন স্হানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা। সংশ্লিষ্ট দফতরে বারবার দৃষ্টি আকর্ষণ ও বিদ্যালয় ভবন সংস্কার করার আবেদন করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

শিক্ষক শিক্ষিকারা তাদের দায়বদ্ধতায় পড়ুয়াদের নিয়ে খোলা আকাশের নীচে গাছ তলাতেই ক্লাস নিতে বাধ্য হচ্ছেন। বর্ষাকালে স্কুল বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের জীবন বাজি রেখে স্কুলে পাঠাচ্ছেন। বিদ্যালয়ে যে ৪ টি শ্রেণি কক্ষ রয়েছে, সেগুলির প্রত্যেকটির ভগ্ন দশা। দীর্ঘদিন ধরেই এরকম জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। শ্যাওলা ধরা সব দেয়ালেই বড়ো বড়ো ফাটল, খসে পড়ছে পলেস্তারা।
গ্রামের বাসিন্দারা জানান, ১৯৭৩ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। মাত্র কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়ে স্কুল শুরু হলেও বর্তমানে বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়ার সাংখ্যা ৯৩ জন। ১ জন পার্শ্ব শিক্ষক সহ শিক্ষক শিক্ষিকার সংখ্যা ৪ জন। বিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে চোখ রাখলেই দেখা যায় দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে। ছাদের নীচে জং ধরা রড বের হয়ে আছে। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মীনা মন্ডল বলেন, যে কোনো সময় ছাদের চাঙড় ভেঙ্গে বা দেওয়াল ধসে ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। ফলে চরম সমস্যার সম্মুখীন হয়ে পড়ুয়াদের নিয়ে গাছ তলাতেই ক্লাস নিতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। এই অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চললেও সংশ্লিষ্ট মহলের কোনো হেলদোল নেই বলে তিনি একরাশ হতাশা ব্যক্ত করেন।

অভিভাবকদের কেউ কেউ বলছেন নতুন ভবন তৈরি হয়েছিল নয়ের দশকের শেষ দিকে। গত ৫ – ৭ বছর এই অবস্থা হয়েছে। তাদের দাবি, নতুন সরকার আসার পর তারা বলছে, আমরা উন্নয়নের বন্যা বইয়ে দিয়েছি। জঙ্গল মহল হাসছে। এই তার নমুনা!
বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষা সেলের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি গৌতম গরাই বলেন, আমরা দ্রুত বিদ্যালয় সংস্কারের দাবি জানিয়েছি। তার দাবি, সামনের বর্ষার আগেই যাতে সংস্কার করা হয় তার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা সংসদকেও জনানো হয়েছে।

এবিষয়ে গঙ্গাজলঘাটি দক্ষিণ চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক মহাদেব মাইতি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত। তিনি নিজে বিদ্যালয় পরিদর্শন করে এসেছেন এবং স্বীকার করলেন বিদ্যালয়ের অবস্থা ভীষণ রকম বিপদজনক পড়ুয়াদের কাছে। বিষয়টি শিক্ষা দফতরে জানিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

