আমাদের ভারত, ১২ জুন: করোনার পরিস্থিতিতে কাশ্মীরে ভোট করানো তৎপরতা শুরু হয়েছে। আর তাতেই কাশ্মীরের ৩৭০ বিলোপ নিয়ে নতুন করে তরজা শুরু হয়েছে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে। এমনকি এতে পাকিস্তানের নামও জড়িয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তান আসলে যা চায় তাই কংগ্রেস করবে। কংগ্রেস নেতা দিগ্বিজয় সিংয়ের একটি অডিও ক্লিপ ফাঁস হবার ঘটনাকে ঘিরে এই বিতর্ক নতুন করে শুরু হয়েছে।
তবে কংগ্রেস দাবি করেছে যেভাবে উপত্যকার বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়া হয়েছে প্রথম থেকেই তার বিরোধিতা করে আসছে তারা। এর সঙ্গে পাকিস্তানকে জুড়ে দেওয়া আসলে বিজেপির চাল ছাড়া কিছুই নয়।
অনলাইনে একটি আলোচনা সভা ঘিরে এই বিতর্কের সূত্রপাত। সেই আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন কংগ্রেস নেতার দিগ্বিজয় সিং। সেখানে এক পাকিস্তানি সাংবাদিক সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপ নিয়ে তার মতামত জানতে চান। দিগ্বিজয় জানান, আগামী নির্বাচনে কংগ্রেস যদি কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসে তাহলে ৩৭০ ধারা বিলোপের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে দেখা হবে।
পাকিস্তানের ওই সাংবাদিকের সঙ্গে কংগ্রেস নেতার এই কথপোকথনের অডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন বিজেপি আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য। আমাদের ভারত এই অডিও রেকর্ডিং-এর সত্যতা যাচাই করে দেখেনি।
কিন্তু এই অডিওকে হাতিয়ার করে কংগ্রেসকে তোপ দেগেছে পদ্ম শিবির। মালব্য টুইট করে লিখেছেন, রাহুল গান্ধীর বিশ্বস্ত সহযোগী দিগ্বিজয় সিং পাকিস্তানি সাংবাদিককে জানাচ্ছেন কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে দেখা হবে। তাই নাকি? আসলে এরাই তো পাকিস্তান চায়। বিজেপি নেতা সম্বিত পাত্রর বক্তব্য ভারতের বিরুদ্ধে বিষ ছড়াচ্ছেন দিগ্বিজয় সিং। কাশ্মীরের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী কবীন্দ্র গুপ্ত বলেন, দ্বিগবিজয়ের বক্তব্য লজ্জাজনক। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী বলেছেন, কাশ্মীরে দ্বিগবিজয় অশান্তির উস্কানি দিচ্ছেন।
In a Club House chat, Rahul Gandhi’s top aide Digvijaya Singh tells a Pakistani journalist that if Congress comes to power they will reconsider the decision of abrogating Article 370…
Really? यही तो पाकिस्तान चाहता है… pic.twitter.com/x08yDH8JqF
— Amit Malviya (@amitmalviya) June 12, 2021
দিগ্বিজয় যদিও দাবি করেছেন তার মন্তব্য নিয়ে ইচ্ছাকৃত বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। কিছু করা এবং ভাবনা চিন্তার মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য আছে। যেভাবে ৩৭০ ধারা বিলোপ করা হয়েছে, প্রথম থেকেই সংসদে তার বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস। কারণ উপত্যকার মানুষের মতামত নেওয়ার কোনো প্রয়োজনই মনে করেনি সরকার। কংগ্রেস নেতার মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আব্দুল্লাহ।

