আমাদের ভারত, ১৩ ফেব্রুয়ারি: রবিবার শেষ হয়ে গেল এবারের কলকাতা বইমেলা। মেলার মাঠ আক্ষরিক অর্থেই পরিণত হয়েছিল জনসমুদ্রে। যতই সময় গড়িয়েছে, ভিড় বেড়েছে মেলার আনাচে-কানাচেও। রাজনীতির নানা মত-পথ এসে মিশেছে তাতে৷
গত বছর যেখানে ২৩ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছিল, সেখানে এবছর ৪৬তম বইমেলায় বিক্রি হয়েছে ২৬ কোটি টাকার ওপর বই। বিগত সব বইমেলার রেকর্ড ভেঙে এবারের বইমেলায় আসা লোকসংখ্যাও ২৬ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে।
বইমেলায় ক’দিন ব্যস্ততা ছিল ‘জাগো বাংলা’-র স্টলে। রবিবারও যেন মানুষের হাট বসে। স্টলে এসেছেন গিয়েছেন মন্ত্রী, বিধায়ক, দলীয় নেতা ও বিভিন্ন পদাধিকারীরা। সব মিলিয়ে জমজমাট ছিল এই স্টল। ‘জাগো বাংলা’-র ঠাকুর দালান রূপী স্টলের বাঁ-হাতে সাংস্কৃতিক মঞ্চে কখনও শিল্পীর কণ্ঠে রবি ঠাকুরের ‘সার্থক জনম আমার’ ইথার তরঙ্গে ভেসেছে চারপাশে। মোহিত হয়ে শুনেছেন চেয়ারে উপবিষ্ট উৎসুক শ্রোতারা। কখনও সমবেতরা মন্ত্রমুগ্ধ হয়েছেন গ্রাম-বাংলার লোকশিল্পীদের নৈপুন্যে। গত বুধবার আবার গানের আসর বসিয়েছিলেন তৃণমূলের রাজ্য মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। বাংলার সর্বজনীন দুর্গোৎসব এখন বিশ্বজনীন। বাংলার মুকুটের এই নতুন পালক এবার ছিল ‘জাগো বাংলা’-র মণ্ডপ ভাবনা। তাই সপরিবার মা দুর্গার নয়নশোভন মৃন্ময়মূর্তি সসম্মানে বিরাজমান। তাঁর সেই বেদির সামনে, ডানে ও বামে টেবিল জুড়ে ছিল বাংলার নিজের মেয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এ পর্যন্ত প্রকাশিত ১৩৪ গ্রন্থের পাশাপাশি ১১ সিডির সম্ভার।
কলকাতা বইমেলায় এসএফআই-এর মুখপত্র ছাত্রসংগ্রাম পত্রিকার স্টল হয়েছিল ৯ নম্বর গেটের কাছে। স্টল নম্বর ৫১৬।’ প্রথম দিন থেকেই স্টলের সামনে প্রচুর ভিড় ছিল। গত বারের বই বিক্রিকেও পিছনে ফেলে দিয়েছে এবারের বইয়ের চাহিদা। গত বছর স্টলে সব মিলিয়ে তিন লক্ষ আশি হাজারের একটু বেশি বই বিক্রি হয়েছিল। সূত্রের খবর, এবার হয়েছে আরও বেশি। বইয়ের পাশাপাশি এবারে স্টলে বিশেষ আকর্ষণ টি শার্ট, টুপি, কফি মগ, পোস্টার, বুকমার্ক। যার চাহিদাও অনেক। এর মধ্যে টিশার্টই বেশি পছন্দ ছিল তরুণ তরুণীদের।
বাম সাহিত্যের বিপুল পসরা ছিল এবারের বইমেলায়৷ ‘গণশক্তি’, ‘যুবশক্তি’, ‘ছাত্র সংগ্রাম’, ‘গণদাবী’, ‘এনবিএ’, ‘মনীষা’ ছাড়াও লিটল ম্যাগাজিনে কট্টর বাম রাজনীতির ইস্তেহার৷
পাঠকরা কেউ কেউ ঘুরতে ঘুরতে গিয়েছেন বিজেপি প্রভাবিত ‘ভারতীয় জনবার্তা’র স্টলের সামনে৷ শনিবার দুপুরে বইমেলায় গিয়ে ওই স্টলেও যান বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। বইয়ের স্টল ঘুরে দেখার পাশাপাশি সাংবাদিক বৈঠকও করেন তিনি। বইমেলা কি বিরোধীদের স্বাধীন চিন্তার মরুদ্যান? দিন দুই আগে ‘ভারতীয় জনবার্তা’-র স্টলে বিজেপি নেতা অধ্যাপক বিমলশঙ্কর নন্দ এ প্রসঙ্গে বলেন, “মরুদ্যান নয়, কয়েকটা খেজুর গাছ বলতে পারেন। বইমেলায় কয়েকটা স্টল, বই দেখে পশ্চিমবঙ্গের বৃহত্তর ছবিটা আঁচ করতে গেলে ভুল হবে৷”
কখনও বা ‘কংগ্রেস বার্তা’র স্টলে আটকে গিয়েছে চোখ৷ ‘ভারত জোড়ো’ যাত্রা ও রাহুল গান্ধীর ছবিতে সেজেছে বইয়ের তাক৷

