“ঘর কল কিছুই পাইনি”, বেলপাহাড়িতে জনসংযোগে যাওয়া মমতাকে ক্ষোভ প্রকাশ আদিবাসীদের

আমাদের ভারত, বেলপাহাড়ি, ১৫ নভেম্বর: তৃতীয়বার রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তারপরে এই প্রথম বেলপাহাড়িতে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিরসা মুন্ডার জন্মজয়ন্তীতে সেখানে তিনি জনসভা করেন। সেখান থেকেই চারটি জায়গায় বিরসা মুন্ডার আবক্ষ মূর্তির উন্মোচন করেন। মেদিনীপুর শহরের রাঙ্গামাটিতে বসানো হয়েছে বিরসা মুন্ডার আবক্ষ মূর্তি। সভা শেষ করে সোজা বেলপাহাড়িতে আদিবাসী গ্রামে যান মমতা। সেখানে আদিবাসী মহিলাদের সঙ্গে তাকে কথা বলতে দেখা যায়। মুখ্যমন্ত্রীকে সামনে পেয়ে ক্ষোভ উগরে দেন গ্রামের মহিলারা।

গ্রামে তারা যে সমস্যার মধ্যে রয়েছেন তার সবটাই মুখ্যমন্ত্রীকে জানাতে থাকেন আদিবাসী সমাজের মহিলারা। তাদের অভিযোগ, ঘর পাইনি যাব কোথায়?প্রতিদিনের পানীয় জলের সমস্যার কথা জানান তারা মুখ্যমন্ত্রীকে।

গ্রামে ঢুকতেই আদিবাসী পরিবারের ক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। মমতাকে দেখে ঘিরে ধরেন আদিবাসীরা। তারা বলেন, “ঘর কল কিছুই পাইনি। ১০০ দিনের কাজ আর টাকা মেলে না। কবে পাবো এসব?” কেউ কেউ অভিযোগ করেন, দু কিলোমিটার দূর থেকে গিয়ে খাবারের জল আনি। বাংলা আবাস যোজনার আওতায় বাড়ি পাইনি। এর উত্তরে মমতাকে শোনা যায় দিল্লির ঘাড়ে দায় চাপাতে। তিনি বলেন, “দিল্লি বন্ধ করে রেখেছে আমাদের টাকা, যখন পাবো তখন দিয়ে দেব। রোজ ঝগড়া করছি। ২০২৪ এর মধ্যে জল পৌঁছে যাবে।”

আদিবাসী গ্রামে ঢুকে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাকে আদিবাসীদের একটি শিশু সন্তানকে কোলে নিতেও দেখা যায়। মানুষকে আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জলের পাইপ টানতে সময় লাগছে। যত দ্রুত সম্ভব সমস্যার সমাধান হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

এদিন আবারও সাধারণ মানুষের সামনে তাকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলতে দেখা যায়। আগামী বছর পঞ্চায়েত নির্বাচন তার আগে জঙ্গল মহলের এলাকাকে আলাদা করে গুরুত্ব দিচ্ছে রাজ্যের শাসক দল। সেই কারণেই বেলপাহাড়িতে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জনসভার পাশাপাশি জনসংযোগ করতে দেখা যায় তাকে। আদিবাসী গ্রাম থেকে বেরিয়ে একটি চপের দোকানেও যান তিনি। নিজে হাতে চপও ভাজেন ও বিলি করেন মুখ্যমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *