আমাদের ভারত, ২ জানুয়ারি: তৃণমূলের সমাবেশ হলে সেখানে কর্মীদের জন্য ডিম ভাত খাওয়ানোর ব্যবস্থা হয়ে থাকে। বহুদিন ধরেই এই রীতি চলে আসছে। তা নিয়ে যথেচ্ছ কটাক্ষও করেন বিরোধীরা। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় ডিম্ভাত শব্দটির ব্যবহারও করেছেন অনেকে। কিন্তু তারপরেও দলের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেই ডিম ভাত খাওয়ার উপরে জোর দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার কলকাতার নজরুল মঞ্চে তৃণমূলের সাংগঠনিক বৈঠক ছিল। আগামী দু’মাসে দলের বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে সেই বৈঠক থেকে। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, নিছক জনসংযোগ নয়, এই কর্মসূচির লক্ষ্য মা মাটি মানুষের জীবনের সঙ্গী হয়ে ওঠা। সোমবার নজরুল মঞ্চের সভায় ওই কর্মসূচিকে তৃণমূলের কর্মযজ্ঞ বলে ঘোষণা করে অভিষেক বলেন, “এটি বাংলার দশ কোটি মানুষের জন্য দিদির সুরক্ষা কবচ। যার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে দিদির দূতেরা।”
এই কর্মসূচিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মধ্যাহ্ন ভোজের যেমন নির্দেশ রয়েছে তেমন রাত্রি বাসও করতে হবে। বেশ কয়েকটি পর্যায়ে হবে এই কর্মসূচি। মাধ্যাহ্ন ভোজ প্রসঙ্গে মমতা স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। যাতে খাওয়া-দাওয়ায় কোনো বৈভব প্রকাশ না পায় মাছ মাংসের পরিবর্তে সস্তার ডিম ভাতের উপরেই জোর দিয়েছেন মমতা। তবে গ্রামের খাল বিলে পাওয়া ছোট মাছ খাওয়া যেতে পারে বলেও তিনি বলেছেন। মমতা বলেন, “মধ্যাহ্ন ভোজ মানে এলাহি আয়োজন নয়, ডাল ভাত তরকারি বড়জোর একটু ডিমের ঝোল। গ্রামের খালে বিলে অনেক রকম ছোট মাছ পাওয়া যায় তা দিয়ে খাওয়া-দাওয়া সারতে হবে।”
রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপিকেউ এই ধরনের কর্মসূচি নিতে দেখা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা সহ কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের নেতারা গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাধ্যাহ্ন ভোজ সেরেছেন। অনেক সময় তৃণমূল এই নিয়ে কটাক্ষ করেছেন। কিন্তু এবার সেই তৃণমূলও একেবারে বাড়ির হেঁসেলে ঢুকে পড়তে বিজেপির পথ অনুসরণ করল। তবে বিজেপি যাতে পাল্টা অভিযোগ না তুলতে পারে তা নিশ্চিত করতে খাওয়ার মেনু সম্পর্কে আগাম সতর্ক করে দিলেন মমতা নিজে।

