আমাদের ভারত, ২০ মার্চ: ভোটের আগে বড় ঘোষণা করলো তৃণমূল কংগ্রেস। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ইশতেহার প্রকাশ করলে তৃণমূল। ইস্তেহারের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দিদির দশ প্রতিজ্ঞা। মহিলা, যুব, কৃষক, সাধারণ পরিবার, প্রায় সব স্তরের মানুষের জন্য একাধিক আর্থিক ও সামাজিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক সুর চড়িয়েছে শাসক দল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, গত ১৫ বছর বাংলায় উন্নয়নের এক নতুন মডেল তৈরি হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই নতুন প্রতিশ্রুতির এই প্যাকেজ আনা হলো তৃণমূলের তরফে।
দিদির দশ প্রতিজ্ঞায় কী কী রয়েছে?
তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে, ১.৭২ কোটি মানুষকে দারিদ্র সীমার বাইরে আনা হয়েছে। দুই কোটি কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে বাংলায়। বেকারত্ব ৪০ শতাংশ কমেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তা, বিদ্যুৎ, কৃষি, সব ক্ষেত্রে উন্নয়নের দাবি করেছে শাসক দল।
ইশতেহারে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ২ লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া রাখার অভিযোগ তোলা হয়েছে। এর মধ্যে ১০০ দিনের কাজে ৩৬ হাজার কোটি টাকা, আবাস যোজনায় ১৬ হাজার কোটি টাকা। গ্রামীণ রাস্তা, পানীয় জল, স্বাস্থ্য, সব ক্ষেত্রেই বকেয়া পাওনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তৃণমূলের বক্তব্য, এই অর্থ না পাওয়ায় রাজ্যের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
তৃণমূল ইশতেহারে জানিয়েছে, আগামী ১০ বছরে বাংলা হবে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। পাঁচ বছরে ৪০ লক্ষ কোটি টাকার অর্থনীতি করার লক্ষ্য করা হয়েছে। গ্লোবাল ট্রেড হাব, বন্দর, লজিস্টিক নেটওয়ার্ক তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হবে। সম্ভবত ইশতেহারে এসব ঢুকিয়েছেন অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অমিত মিত্র।
এছাড়া প্রশাসনিক বিষয়েও রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য ঘোষণা করা হয়েছে। ইশতেহারে বলা হয়েছে, রাজ্যে সপ্তম পে কমিশন চালু করা হবে। বকেয়া ধাপে ধাপে মেটানো হবে। নতুন প্রশাসনিক ইউনিট গড়া হবে।
সব মিলিয়ে নারী, যুবক, কৃষক, সব স্তরের ভোটারকে লক্ষ্য করে তৈরি এই ইশতেহার, যা আগামী নির্বাচনে তৃণমূলের প্রধান অস্ত্র হতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

