পাপের ভাগ কেউ নেয় না! দিদি নিশ্চিন্ত থাকুন আপনার বাড়িতে সিবিআই গেলে কেউ পথে নামবে না: সুকান্ত

আমাদের ভারত, ১৫ আগস্ট: গতকাল একটি সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন ইচ্ছে করে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, বিজেপি ইচ্ছে করে এসব করাচ্ছে। তিনি মানুষের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন যদি তার বাড়িতে সিবিআই আসে তখন সবাই রাস্তায় নামবে তো? আজ এই মন্তব্যটির বিপক্ষে পাল্টা কটাক্ষ করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। সুকান্ত মজুমদার বলেন, পাপের ভাগ কেউ নেয় না দিদি। আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন আপনার বাড়িতে সিবিআই গেলে কেউ পথে নামবে না।

দেশের ৭৫ তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে হর ঘর তেরঙ্গার কর্মসূচি নিতে আবেদন জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিন দিন বাড়িতে, অফিসে তেরেঙ্গা ওড়ানোর আবেদন জানিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই কর্মসূচিকে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তিনি বলেন, তোর কথায় পতাকা তুলব? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কথার কঠোর সমালোচনা করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন,”মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে তুই তোকারি করেছেন। আমাদের লজ্জা হয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে বলছেন তোর কথায় জাতীয় পতাকা তুলব?”

সুকান্ত মজুমদার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দশ্যে বলেন, কারোর কথায় পতাকা তুলতে হবে না। আপনি বিজেপির বিরোধিতা করুন, আপনি মোদীর বিরোধিতা করুন। কিন্তু দেশের জাতীয় পতাকার বিরোধিতা আপনি করতে পারেন না।

সুকান্ত মজুমদার কটাক্ষ করে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী নিজের পরিচয় নিজেই দিচ্ছেন। একজন ব্যক্তির মধ্যে কী শিক্ষা, কী সংস্কৃতি বোধ আছে সে তার ভাষা দিয়েই প্রকাশ করে। প্রধানমন্ত্রীকে তুই তোকারি করে সেই শিক্ষার প্রকাশ তিনি ঘটাচ্ছেন।

পার্থ চট্টোপাধ্যায় এখন জেলে। অনুব্রত মণ্ডল সিবিআই হেফাজতে। এই ঘটনার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইচ্ছে করে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে তৃণমূলের পেছনে লাগানো হয়েছে। তিনি একটি জনসভা থেকে মানুষকে প্রশ্ন করেছেন, যদি তার বাড়িতে সিবিআই আসে, তাহলে মানুষ পথে নামবে তো? আর এই মন্তব্যের তীব্র কটাক্ষ করেছেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মাথা খারাপ হয়ে গেছে। ভয় পেয়েছেন। উনি জিজ্ঞাসা করছেন আমার বাড়িতে সিবিআই ঢুকলে আপনারা রাস্তায় নামবেন তো? দিদিমণিকে বলুন দিদিমণি আপনি গল্প শোনেননি রত্নাকর দস্যুর?” রত্নাকর দস্যুর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, রত্নাকর দস্যু একবার নারদ মুনিকে ধরে বলছিলেন আয় তোকে কাটবো তোর কাছে কি সম্পত্তি আছে দেখি। তাতে নারদ মুনি বলেছিলেন সে সব দিয়ে দেবে কিন্তু এইসবে রত্নাকর দস্যুর যে পাপ হচ্ছে সে পাপের ভাগ কে নেবে? তাতে রত্নাকর দস্যু বলছিল তার পাপের ভাগ বাড়ির লোক নেবে। যাদেরকে সে লুট করে খাওয়াচ্ছে। তখন নারদ মুনি বলেন সে যেনো একবার জিজ্ঞেস করে আসে তার পরিবারকে যে তারা পাপের ভাগ নেবে কিনা। কিন্তু দেখা যায় রত্নাকর দস্যুর পরিবারের কেউ তার পাপের ভাগ নিতে রাজি নয়।

এই গল্প স্মরণ করিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আপনার বাড়িতেও যখন সিবিআই যাবে তখন কেউ রাস্তায় নামবে না। আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন।”

তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এত ভয় পাচ্ছেন কেন? আমরা তো ভয় পাচ্ছি না। আপনি সিবিআই পাঠান, সিআইডি পাঠান, এফবিআই পাঠান– আমেরিকা থেকে নিয়ে আসুন কোনও ভয় নেই আমাদের। কারণ আমাদের পকেট ঠনঠন গোপাল। আমাদের চুরিরে ভয় নেই, চোরের ভয় নেই।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুকান্ত মজুমদারকে দুগ্ধপোষ্য শিশু বলে কটাক্ষ করেছেন। এর পাল্টা দিতে গিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “ভালো কথা বলেছেন দিদি, আমি দুগ্ধপোষ্য শিশু আপনার সামনে। কারণ আপনাদের মত এত বড় চুরি করতে আমরা শিখিনি।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, আগামী দিনে সুকান্ত মজুমদাররা হয়তো আর সাংসদ থাকবেন না। এই মন্তব্যেরও পাল্টা জবাবে বিজেপি রাজ্য সভাপতি বলেন, আগামী দিনে আমরা সাংসদ থাকবো কিনা সেটা ঠিক করবে পশ্চিমবঙ্গের জনগণ। তবে এটা আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি আগামী দিনে আমি জেলে যাব না। আপনি (মুখ্যমন্ত্রী) জেলে যেতে পারেন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *