“মুখ্যমন্ত্রী কি একবারে ইতিহাস পরীক্ষায় পাশ করেছিলেন?”, আক্রমণ শুভেন্দুর

রাজেন রায়, কলকাতা, ২৩ জানুয়ারি: বাংলা জুড়ে পালিত হচ্ছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন। রেড রোডে নেতাজির মূর্তির পাদদেশে সকালে মাল্যদান করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তারপর বেলা ১২ টার সময় রাজ্য সরকারের অনুষ্ঠান শুরু হয়। মূর্তির পাদদেশে মাল্যদান করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুভাষের জন্মক্ষণে বাজে সাইরেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে শাঁখ বাজান, মঞ্চে গান গান বসু পরিবারের সদস্যরা। তার পরেই নেতাজিকে সম্মান, শ্রদ্ধা জানিয়ে নিজের বক্তব্য শুরু করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তবে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের কিছুক্ষণ পরেই তাঁকে একেবারে ব্যক্তিগত ভাবে কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। নিজে ট্যুইটার হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “সিএম কি একবারে ইতিহাস পরীক্ষায় পাস করেছিলেন, না কি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কাল্পনিক চরিত্র হিসেবে বিবেচনা করেন।” এর কারণ হিসেবে রেড রোডে মমতার দেওয়া বক্তব্যকেই তুলে আনছে ওয়াকিবহাল মহল। দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার অবদান, নারীদের অবদান এসব প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, বার বার বলেন, এই ইতিহাস সকলের সামনে পৌঁছে দেওয়ার কথা। নেতাজি জন্মজয়ন্তীতে বেশ কিছু প্রকল্পের কথাও বলেন। তার পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে ওঠেন, “মাতঙ্গিনী হাজরার ছোট্ট একটা ইনসিডেন্ট বলি, দিঘায় একটা ব্রিজ আছে কন্টাইয়ে, সামনেই তমলুক, দিঘার পাশাপশি। ব্রিজটার নাম পিছাবনি।” নিজের এই বক্তব্যের পরে তিনি প্রশ্ন করেন, “কেন পিছাবনি হয়েছিল জানেন?” উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বলে চলেন, “একদিকে ইংরেজরা গুলি ছুঁড়ছিল, রক্ত খেতে খেতে মাতঙ্গিনী মায়ের বুক ঝাঁঝরা হয়ে গেল, কিন্তু তিনি সরে গেলেন না, আরও এগিয়ে গেলেন, সেই কারণেই এই ব্রিজের নাম পিছাবনি, লোকাল ভাষায়। এসব কথা আমাদের মনে রাখতে হবে।”

এই বক্তব্যের কয়েক ঘন্টা পরেই ট্যুইটে শুভেন্দু লিখেছেন, “মাতঙ্গিনী হাজরা প্রাণত্যাগ করেছিলেন ১৯৪২ এর ২৯ সেপ্টেম্বর, বানপুকুর, তমলুকে। তমলুক থানার দিকে অগ্রসর হওয়া একটি মিছিলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে গুলি লেগে প্রাণ হারান তিনি।” মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমন করে তিনি লিখেছেন, “সিএম কি একবারে ইতিহাস পরীক্ষায় পাস করেছিলেন, নাকি তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কাল্পনিক চরিত্র হিসেবে ভাবেন?” অন্য একটি ট্যুইট করে লিখেছেন, “ইতিহাস বিকৃত করার অধিকার কে দিয়েছে আপনাকে?” সেখানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ট্যাগ করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার কথা বলেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *