আমাদের ভারত, ১৮ নভেম্বর: রাজ্যের নতুন রাজ্যপাল হচ্ছেন সি বি আনন্দ বোস। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে এই ঘোষণা করা হয়েছে। সিভি আনন্দ বোসকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে বলে একটি বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে। কিন্তু ধনখড়ের উত্তরসূরির নাম ঘোষণা হতেই তার পদবী, চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। উনি কি বাঙালি?
নতুন রাজ্যপালের পদবী বোস হলেও তিনি কখনোই বাঙালি নন। দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ু বা কেরলে বাংলার সুভাষচন্দ্র বসুর নামে নাম রাখার রেওয়াজ আছে। সম্ভবত সেই কারণেই তার পদবী বোস বলে অনেকের ধারণা। প্রাক্তন আইএএস সিভি আনন্দ মেঘালয় সরকারের উপদেষ্টা পদে ছিলেন।
সিভি আনন্দের জন্ম ১৯৫১ সালের ১০রা জানুয়ারি কেরলের কোট্টায়ামে। প্রশাসনিক কাজ সহ কেন্দ্রীয় রাজনীতির সাথে তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত। তিনি প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর “ম্যান অফ আইডিয়া” নামে পরিচিত। কারণ আনন্দের একাধিক ভাবনাকে কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে কাজে লাগিয়েছে। দেশের সব মানুষের জন্য পাকা বাড়ি তৈরির যে ভাবনা মোদী সরকার নিয়েছিল সেটা তার মস্তিষ্ক প্রসূত।
কেরল সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে প্রধান সচিব ছিলেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর সচিব হিসেবেও কাজ করেছেন আনন্দ। কাজের জন্য ২৯ টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন বাংলার নতুন রাজ্যপাল। মেধাবী ছাত্র আনন্দ শিক্ষা জীবনে ১০০ টিরও বেশি পদক পেয়েছেন যার মধ্যে ১৫টি স্বর্ণপদক।
সুবক্তা হিসেবে তাঁর সুনাম আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন পরপর তিন বছর সেরা বক্তা হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছিলেন। এছাড়াও মুসৌরি লাল বাহাদুর শাস্ত্রী আইএএস ট্রেনিং একাডেমিতে বিতর্ক সভায়ই প্রথম হয়েছিলেন আনন্দ।
তিনি লেখকও বটে। ইংরেজি, হিন্দি, মালায়লামে চল্লিশটি বই লিখেছেন। উপন্যাস, ছোট গল্প, কবিতা সাহিত্যের সবদিকেই তার সহজ বিচরণ। তার বেশ কয়েকটি বই বেস্ট সেলারও বটে।
পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় উপরাষ্ট্রপতি হওয়ার পর রাজ্যে অস্থায়ী রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন লা গণেশন। তবে তাঁকে নিয়ে বিজেপির ভিতরে অসন্তোষ ছিল। রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে রাজ্য সরকারের মন্ত্রী অখিল গিরি মন্তব্য প্রসঙ্গে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বারবার সময় চাইলেও রাজ্যপাল সময় দেননি বলে অভিযোগ তাঁর। রাজভবনে গেলে গণেশন দেখা না পেয়ে তিনি তাঁর সচিবের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে আসেন। রাজভবন থেকে বেরিয়ে রাজ্যের অস্থায়ী রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের সামনে উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন বিরোধী দলের নেতা। শুধু শুভেন্দুই নয় গণেশানকে নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছিলেন বিজেপির নেত্রী অগ্রিমিত্রা পালও। অস্থায়ী রাজ্যপালের সঙ্গে প্রাক্তন রাজ্যপাল করে তুলনা টেনে তিনি বলেছিলেন ধনখড় নিরপেক্ষ ছিলেন,কিন্তু এই রাজ্যপালের কাছে সময় পেতে সমস্যা হয়।
অন্যদিকে রাজ্যের বিরোধীদের কাছে গণেশন অসন্তোষের কারণ হলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে কালী পুজোতে গিয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে গণেশনের দাদার জন্মদিনের চেন্নাইয়ের বাড়িতেও গিয়েছিলেন মমতা। এবার নতুন রাজ্য পালের সঙ্গে মমতা সরকারের সম্পর্ক কোন দিকে যায় তাই এখন দেখার।

