আমাদের ভারত, মুর্শিদাবাদ, ৯ সেপ্টেম্বর: মুর্শিদাবাদের এক জ্বলন্ত সমস্যা নদী ভাঙ্গন। বর্ষা এলেই বুক কাঁপে নদী পাড়ে বসবাসকারী মানুষদের। এবারেও রেহাই মিলল না। সামসেরগঞ্জের মানচিত্র থেকে একপ্রকার মুছে জেতে বসেছে গঙ্গা তিরবর্তী একাধিক গ্রাম। গঙ্গায় জল বাড়ার সাথে সাথে ভাঙ্গনের তাণ্ডবও বাড়ছে। লাগাতার গঙ্গা ভাঙ্গনে বসত ভিটে, জমি জায়গা সর্বস্ব খুইয়েছেন অসংখ্য মানুষ। ভাঙ্গনে আজ বিপর্যস্ত ধানঘরা গ্রাম। দিনের আলো, বা রাতের অন্ধকার ভাঙ্গন চলছে সর্বক্ষণ। ভেঙ্গেই চলেছে নদী পাড়। ঘর বাড়ি, স্কুল, বাগান সব আজ জলের তলায়। ভাঙ্গনের ভয়ে ইটের পাকা বাড়ি ভেঙ্গে ফেলেছেন সকলেই। অনেকেই গ্রাম ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়ের বাড়ি। এক ঝলক দেখলে মনে হবে ধানঘরা গ্রাম যেন কোনও ধ্বংসস্তুপের আর এক নাম। মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই, নেই কোনও বিকল্প রাস্তা। সব হারিয়ে আজ কেমন আছেন ধানঘরা গ্রামের মানুষজন।
পরিবার পরিজন নিয়ে, যাযাবরের মতোই দিন কাটছে গ্রামবাসীদের। ইট পাথরের ভিড়ে পুরনো স্মৃতি হাতরে বেড়াচ্ছেন মেয়ে বউরা। সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে না পারার কষ্টে আজ চোখের জলও শুকিয়েছে।
গ্রামবাসীদের মনে শুধুই আক্ষেপ। বহু প্রতিশ্রুতি মিলেছে। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিরা পরিদর্শনও করেছেন, কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা কিছুই হয়নি। গ্রামবাসীদের প্রশ্ন এভাবে আর কত দিন? সব হারিয়ে কোথায় যাবেন তারা? গ্রাম জুড়ে শুধুই হাহাকার আর কান্নার রোল। অনেকেই বলছেন, কোনও ত্রাণ জোটেনি, মেলেনি পুনর্বাসন। খোলা আকাশের নীচে দিন গুজরান ক্ষতিগ্রস্তদের।

সামসেরগঞ্জের ভাঙন নিয়ে বিতর্কও পছু ছাড়ছে না। একদিকে কেন্দ্র রাজ্যের তরজা, অন্যদিকে ফরাক্কা ব্যারেজ প্রজেক্ট কর্তৃপক্ষের সাফ কথা, তাদের একতিয়ারের বাইরে এই কাজ। সব নিয়ে ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ কেন্দ্র- রাজ্যের তরজায় বিরক্ত হয়ে চাইছেন পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ। রাজনীতির দাবানলে পিষে যেতে নয়, বাঁচতে চান ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষজন। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে তাদের জন্য কিছু করা হোক, এই দাবিই তাদের।

