পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৯ আগস্ট: কোভিড বিধি অমান্য করে শ্রাবণের চতুর্থ সোমবার পতিরাম ধামে উপচে পড়ল ভক্তদের ভিড়। শিবের মথায় জল ঢলতে রাতভর চললো ভক্তদের আনাগোনা। তারস্বরে মাইক বাজিয়ে দলে দলে মানুষের ভিড় পতিরাম ধামে। নিয়ম নীতি ভেঙে আত্রেয়ী নদীতে চললো ভক্তদের স্নান, চললো অবাধে গাঁজার আসর। বসলো মেলাও। অনুমতি ছাড়াই চলেছে ওই অনুষ্ঠান বললেন বিডিও। ভক্তদের আবেগেই ভিড় বেড়েছে, বলে দায় এড়ালেন কর্তৃপক্ষ।
বালুরঘাট ব্লকের পতিরাম ধামে প্রতিবছর শ্রাবণ মাসে ঢল নামে ভক্তদের। শিবের উপসনা করতে জেলা ও জেলার বাইরের বহু মানুষ রাত জেগে হেঁটেই ছুটে আসেন পতিরামে। আত্রেয়ী নদীতে স্নানের পরে লাইন দিয়ে শিবের মাথায় জল ঢালেন ভক্তরা। নদীতে স্নান করতে গিয়ে একাধিকবার দুর্ঘটনা ঘটেছে ওই এলাকায়। যারপরে কিছুটা শক্তহাতে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করে জেলা প্রশাসন। গত বছর লকডাউনের কারণে বন্ধ রাখা হয় পতিরাম ধাম। লকডাউনের বিধিনিষেধ বর্তমান সময়েও জারি থাকায় এব্যাপারে সতর্ক থাকে প্রশাসন।

কিন্তু শ্রাবনের চতুর্থ সোমবার সমস্ত বিধিনিষেধ ভেঙে ফেলেন ভক্তরা। রবিবার রাত থেকে হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে উপচে পড়ে পতিরাম ধাম। আত্রেয়ী নদী থেকে জল নিয়ে শিবের আরাধনায় মাতেন সকলে। এলাকায় চলে প্রকাশ্যে গাঁজার আসর, বসে মেলাও। ভোররাত থেকে ভক্তদের এমন তান্ডব সামলাতে কার্যত হিমসিম খেতে হয় হাতে গোনা কয়েকজন সিভিক ও পুলিশ কর্মীকে। কোভিডের বিধিনিষেধের মধ্যে কিভাবে সেখানে এত জনপ্লাবন ঘটলো তা নিয়ে কিছুটা প্রশ্নের মুখে পড়েছে ব্লক প্রশাসন।

যদিও এই বিষয়ে সরকারি ভাবে কোনও অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন বালুরঘাট ব্লকের বিডিও অনুজ সিকদার।
মন্দির কমিটির তরফে স্বামীজি হরহরা নন্দজী মহারাজ জানিয়েছেন, ভক্তদের ভিড় কত হয়েছে তা তাঁর জানা নেই।মানুষ আবেগের বসেই এখানে চলে এসেছেন। প্রশাসনের কাছে তারা কোনও অনুমতিও নেননি কোভিড বিধিনিষেধ লাগু থাকার কারনে।
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা দুই ভক্ত পুজা রায় ও মিঠুন ঠাকুররা বলেন, প্রচুর মানুষের ভিড় উপচে পড়েছে। কোভিড বিধি জারি থাকলেও আবেগে কেউই কোনও নিয়ম মানেনি, মাস্কও পড়েনি।

